আতঙ্ক পাকিস্তানে! এই বছরের ৯ মাসেই ১০ হাজারের বেশি মানুষ AIDS আক্রান্ত, শেষ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা কত হবে?

গত এক বছরের মধ্যে পাকিস্তানে এইডস (AIDS) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসেই ১০ হাজারের বেশি লোক এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা গত বছরের ১৩,০০১ জনের সংখ্যাকেও টপকে যাবে।
দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ:
‘গালফ নিউজ’-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিকিৎসা পদ্ধতি, জরুরী চিকিৎসা এবং ভিসার প্রয়োজনীয়তার সময় আকস্মিক স্ক্রিনিং-এর ফলেই দেশটিতে এইডস সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালকে দেশের ইতিহাসে এইডস আক্রান্তের দ্রুততম বৃদ্ধির বছর হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
পাকিস্তানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী, নির্বাসিত অভিবাসী এবং যৌনকর্মীদের মধ্যে এইডস সংক্রমণ দিনের পর দিন রেকর্ড ছুঁচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বেশিরভাগ লোক হয় চিকিৎসার বাইরে থাকছে, নয়তো অজান্তেই ভাইরাস সংক্রমিত করছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যদ্বাণী:
UNAIDS, WHO এবং UNICEF-এর মডেলিং অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এইডস আক্রান্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পুরুষদের মধ্যে পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, মাদকের সাহায্যে যৌন কার্যকলাপ, মেথামফেটামিন ব্যবহার, অসুরক্ষিত যৌন মিলন—এই ধরনের প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রবণতা ট্রান্সজেন্ডার বা মহিলা যৌনকর্মীদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বেশিরভাগই এইডস সম্পর্কে অবগত নন।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট দাবি করছে, পাকিস্তানে বর্তমানে ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত। তবে এর মধ্যে মাত্র ৭৮ হাজার জন চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করছে এবং ৫৫ হাজার মানুষ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি গ্রহণ করছে। এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিবাসীরাই এইডসের মূল সংক্রামক। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলির গাফিলতিও এর পিছনে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।