“এলাকায় না জেতালে পদ যাবে, মিলবে না টিকিট!” বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে চরম সতর্কবার্তা জেলা নেতৃত্বের

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election)। এই নির্বাচনের আগে নিজেদের দুর্বল ঘাঁটি মজবুত করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। একুশের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের জেরে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব এবার দলের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘জেতানোর টার্গেট’ বেঁধে দিল। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে এলাকার নেতাদের পদ যেমন যাবে, তেমনই পরের নির্বাচনে দলীয় টিকিটও মিলবে না।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মধ্যে বাঁকুড়া জেলায় তৃণমূলের ফল ছিল সব থেকে খারাপ—১২টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছিল বিজেপি। এমনকি, গত লোকসভা নির্বাচনেও জেলার বিষ্ণুপুর আসনে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভাকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল।
উৎসবের মরশুম শেষ হতেই বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন ব্লক ও শহরের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে জেলা নেতারা দলের জনপ্রতিনিধি ও নিচু স্তরের নেতাদের কার্যত সরাসরি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।
গতকাল বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত স্পষ্ট বলেন, “নিজের এলাকায় দলকে জেতাতে হবে। তবেই সে পদে থাকতে পারবে। না হলে দল বা জনপ্রতিনিধির পদে বসে থেকে দাদাগিরি করতে দেওয়া হবে না।” একইভাবে বাঁকুড়া শহরের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে তৃণমূল সাংসদ অরুপ চক্রবর্তী পুরসভার কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন যে, যে কাউন্সিলর নিজের এলাকায় দলকে জেতাতে পারবেন না, তিনি আগামী পুর নির্বাচনে টিকিট পাবেন না।
তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ও বিজয়া সম্মিলনীর একাধিক মঞ্চ থেকে দলের নেতাদের মধ্যেকার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। যদিও এই পদক্ষেপ নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত তৃণমূলকে এখন হারের আতঙ্ক গ্রাস করেছে। তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনেই এমন মন্তব্য করে কর্মীদের মরিয়া করে তোলার চেষ্টা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।