মাওবাদের দুর্গ প্রায় মুক্ত! দণ্ডকারণ্য ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরল নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ২০৮ জন—এই পদক্ষেপ কেন ঐতিহাসিক?

দীর্ঘদিনের বাম-উগ্রপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ছত্তীসগঢ়ের লড়াইয়ে এল এক যুগান্তকারী সাফল্য। গতকাল, শুক্রবার এক বিশাল কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে ২০৮ জন মাওবাদী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনা দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার পথে এক বিরাট পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই আত্মসমর্পণের পর সরকারি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, এর ফলে আবুঝমাড়ের (Abujhmad) অধিকাংশ এলাকাই এখন নকশাল প্রভাবমুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর বস্তারে কয়েক দশক ধরে চলা ‘লাল সন্ত্রাস’-এর প্রায় অবসান ঘটানো সম্ভব হলো। শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, এখন কেবল দক্ষিণ বস্তার এলাকাতেই মাওবাদী প্রভাব অবশিষ্ট রইল।

কারা আত্মসমর্পণ করল? বাজেয়াপ্ত হলো কোন কোন অস্ত্র?
আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ১১০ জন মহিলা এবং ৯৮ জন পুরুষ রয়েছেন। এরা সকলেই বেআইনি ঘোষিত CPI (Maoist) সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের সদস্য ছিলেন।

আত্মসমর্পণকারী শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে রয়েছেন একজন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (CCM), চারজন দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির (DKSZC) সদস্য, একজন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং ২১ জন ডিভিশনাল কমিটির সদস্য (DVCMs)।

অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন ৬১ জন এরিয়া কমিটির সদস্য, ৯৮ জন সাধারণ সদস্য এবং ২২ জন অন্যান্য ক্যাডার।

আত্মসমর্পণের সময় মাওবাদীরা মোট ১৫৩টি অস্ত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো ১৯টি AK-47 রাইফেল, ১৭টি SLR রাইফেল, ২৩টি INSAS রাইফেল, একটি INSAS LMG এবং ৩৬টি .303 রাইফেল। এছাড়া ১১টি BGL লঞ্চার, ৪টি কারবাইন এবং ৪১টি শটগানও রয়েছে বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্রের তালিকায়।

আধিকারিকেরা এই ব্যাপক আত্মসমর্পণকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি সরকারের নকশাল নির্মূলকরণ ও পুনর্বাসন নীতি ২০২৫-এর ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রমাণ। এই নীতি উন্নয়ন, আলোচনার পথ এবং আস্থা তৈরির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জঙ্গিদের মূলস্রোতে ফিরতে উৎসাহিত করছে।

এই বিশাল সংখ্যক মাওবাদীর আত্মসমর্পণ বস্তার এবং বৃহত্তর দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে উন্নয়ন ও শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও গতি দেবে এবং একসময় মাওবাদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই অঞ্চলের নেটওয়ার্ককে আরও দুর্বল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আত্মসমর্পণকারী গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রূপেশ ওরফে সতীশ (কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য), ভাস্কর ওরফে রাজমান মাণ্ডভি, রনিতা, রাজু সালাম, ধন্নু ভেট্টি ওরফে সন্তু (সকলেই DKSZC সদস্য) এবং রতন এলাম (আঞ্চলিক কমিটির সদস্য)। সরকারি আধিকারিকেরা মনে করছেন, এই গণ-আত্মসমর্পণ বস্তার এবং দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকে এক নির্ণায়ক পদক্ষেপ।