তৃণমূলের ‘ভুয়ো চিঠি’ দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ! বিভাস চন্দ্র ঘোষ গ্রেফতার হতেই কটাক্ষ বিজেপির

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলি যখন ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই শাসকদলের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির খবর সামনে আসতে শুরু করল। এমতাবস্থায় ভুয়ো চিঠি দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ঘাটাল পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিভাস চন্দ্র ঘোষকে। এই ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং বিরোধী দল বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বর্তমান কাউন্সিলর বিভাস চন্দ্র ঘোষ একটি ভুয়ো চিঠি দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে আরও অনেকের থেকে টাকা তোলার অভিযোগও উঠছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভুয়ো চিঠিটিতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামাঙ্কিত প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও এই চিঠিটি যে ভুয়ো, তা স্পষ্ট দাবি করেছে দল।
টাকা তোলার এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি ঘাটাল থানার দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, পদোন্নতির দাবি করে বিভাস চন্দ্র ঘোষ তাঁকে প্রভাবিত করেন এবং একটি ভুয়ো চিঠি দেখিয়ে দাবি করেন যে তাঁকে নাকি ফের চেয়ারম্যান পদে উন্নীত করা হয়েছে। আর এই ভুয়ো তথ্য দেখিয়েই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্তে নামে এবং গত রবিবার রাতে বিভাস চন্দ্র ঘোষকে জালিয়াতি করার অভিযোগে গ্রেফতার করে।
ভুয়ো চিঠি প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি জানিয়েছেন, “একটা নকল চিঠি নিয়ে উনি কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যান হয়েছেন বলে দাবি করে যাচ্ছিলেন। অথচ আমাদের দলের কাছে কোনো খবর নেই। আমরা মনে করি কোনো খারাপ চক্র ওকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। সে কারণেই পুলিশ ওকে ধরেছে। দলের নাম করে কেউ যদি কোনো জালিয়াতি করার চেষ্টা করে তা জানা মাত্রই পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল বিজেপি। ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, “আমরা খুশি হব যদি তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত সব নেতাদেরই পুলিশের জালে ধরা পড়ে। ঘাটাল পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যানও অবৈধভাবে টেন্ডার দিয়ে টাকা হাতিয়েছেন। আমরা চাইব তাঁর বিরুদ্ধেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।”