‘চুরি করে ঘি খাচ্ছে, কম্বল দিয়ে ঢাকছে!’ প্রশান্ত কিশোরের নিশানায় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-আমলারা, নিশানা করলেন সম্রাট চৌধুরীকেও

জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে) বুধবার বিহার নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বিস্ফোরক ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যদি তাঁর দল বিহারে ক্ষমতায় আসে, তবে এক মাসের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ১০০ জন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার’ অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর বলেন, বর্তমান এনডিএ সরকারের আমলে বিহারে ব্যাপক দুর্নীতি ছড়িয়ে আছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আরজেডি-র সময়েও রাজ্যের পরিস্থিতি বিশেষ ভালো ছিল না।
কিশোর প্রতিশ্রুতি দেন, বিহারকে ভূমি মাফিয়া, বালি খাদান মাফিয়া এবং সব ধরনের মাফিয়া মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, বিহারের উন্নয়নের জন্য তাঁরা জনগণের কাছে ছয়টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার মধ্যে বিতর্কিত মদ্যপান নিষিদ্ধকরণ নীতি বাতিল করাও অন্তর্ভুক্ত।
পার্টির প্রধান জানান, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে ১০০ জন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা ও কর্মকর্তার চিহ্নিতকরণের জন্য আইন তৈরি করা হবে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আমার বিশ্বাস, এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা এখন পুজো-আর্চা করছেন, যাতে আমরা ক্ষমতায় না আসতে পারি।” এই দুর্নীতিবাজ নেতা-আমলাদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে এবং তাঁদের সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে, যা বিহারের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।
‘ল্যান্ড ফর জবস’ কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে প্রশান্ত কিশোর বলেন, লালু প্রসাদ এবং তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলেও তা ‘তেমন বড় কথা নয়’, কারণ এটি “ইতিমধ্যেই নোংরা কাপড়ের উপর একটি দাগের মতো”।
তবে তিনি এনডিএ শাসনে চলা দুর্নীতিকে আসল খবর বলে দাবি করেন। পিকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, সাতজনের হত্যাকাণ্ডের আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওই পদে বহাল আছেন। কিশোরের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে চৌধুরী নিজেকে নাবালক প্রমাণ করার জন্য একটি ভুয়ো শংসাপত্র জমা দিয়ে মামলা থেকে রক্ষা পান। একটি প্রবাদ ব্যবহার করে তিনি বলেন, “এসব লোক চুরি করে খাওয়া ঘি লুকানোর জন্য নিজেদের শরীরে কম্বল জড়িয়ে রাখে।”
পিকে আরও স্পষ্ট করেন যে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজ্যের ৬০ শতাংশ মানুষ বিহারে পরিবর্তন চান। তাঁর মতে, এতদিন মানুষের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না—একশ্রেণির মানুষ লালু-ভয়ে বিজেপি-কে ভোট দিত, আবার মুসলিম সম্প্রদায় বিজেপি-কে ঠেকাতে লালুকে ভোট দিত। এবার জন সুরাজ তাদের একটি বিকল্প দিচ্ছে।