প্রস্রাব খাইয়ে, জুতোর ফিতে ধুইয়ে অকথ্য অত্যাচার! পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, কী বলছে প্রশাসন?

উত্তরাখণ্ডের টেহরি জেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে কেশব থালওয়াল নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, পুলিশ তাঁকে অপহরণ করে থানায় নিয়ে গিয়ে অকথ্য নির্যাতন করেছে। এই অভিযোগের পর উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহলে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভাইরাল ভিডিওতে কেশব অভিযোগ করেছেন যে, গত ৯ মে চম্বা-মুসৌরি রোডে তাঁকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে কদ্দু খাল হয়ে কোটি কলোনি পুলিশ আউটপোস্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থানার ওসি ধর্মেন্দ্র রৌন্টেলা এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁর পোশাক খুলে প্রস্রাব পান করানো হয় এবং জুতোর ফিতে দিয়ে মারধর করা হয়।
কেশবের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন টেহরি গাড়ওয়ালের এসএসপি আয়ুষ আগরওয়াল। তিনি বলেন, কেশব এর আগেও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলেন। এসএসপি আরও জানান, কেশবের মায়ের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কেশব তাঁর মা ও বোনকে মারধর করেছেন এবং গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে তাঁদের প্রাণনাশের চেষ্টা করেছিলেন। কেশবের বিরুদ্ধে মারধর, খুনের হুমকি, পুলিশের উপর হামলা এবং আর্মস অ্যাক্টসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। লাম্বগাঁও থানার ওসি ধর্মেন্দ্র রৌন্টেলাও কেশবের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের বিধায়ক বিক্রম সিং নেগি এবং জেলা কংগ্রেস সভাপতি রাকেশ রানা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় গ্রামবাসী এবং উত্তরাখণ্ড ক্রান্তি দলও পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বিতর্কের মুখে গাড়ওয়াল রেঞ্জের আইজি রাজীব স্বরূপ এই মামলার তদন্ত টেহরির বাইরের অন্য কোনো জেলার পুলিশের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অভিযুক্ত দুই সাব-ইন্সপেক্টরকে অবিলম্বে বদলি করার এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যাঁরা কোনো প্রমাণ দিতে চান, তাঁরা সরাসরি পুলিশের কাছে জমা দিতে পারেন।