পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্টের বৈঠক, ভারতের কড়া বার্তার পরই কি নতুন চাল বেজিংয়ের

জাপান ও চিন সফর সেরে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপরেই নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান ও চিন। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া সন্ত্রাসবিরোধী বার্তার পরই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
মোদী ও শরিফের মুখোমুখি, তারপরই চিন-পাক বৈঠক
সোমবার এসসিও সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদী সরাসরি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে সরব হন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “কোনও কোনও দেশ যে ভাবে খোলাখুলি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে, তা কি আমরা মেনে নিতে পারি?” পহেলগাঁও হামলার কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, “সন্ত্রাসবাদ মানবতার প্রতি খোলামেলা চ্যালেঞ্জ।” তাঁর এই ভাষণের পরদিনই জিনপিংয়ের সঙ্গে পাক সেনাপ্রধানের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুর অভিযানের জেরে ভারতের কাছে পাকিস্তান নতজানু হলেও, দেশের জনগণের কাছে এই সত্য গোপন করতে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পদোন্নতি করে তাঁকে ‘ফিল্ড মার্শাল’ হিসাবে নিয়োগ করা হয়।
বেইজিং ও ইসলামাবাদের কৌশলগত বোঝাপড়া
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির উভয়েই উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। শেহবাজ শরিফ চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং এই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বৈঠকে চিনা প্রেসিডেন্ট সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই সম্পর্কে আশা প্রকাশ করেন যে পাকিস্তান চিনা নাগরিক ও প্রকল্পের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। উল্লেখ্য, এটি ফিল্ড মার্শাল হিসেবে আসিম মুনিরের দ্বিতীয় চিন সফর। এর আগে তিনি জুলাই মাসে চিন সফর করেছিলেন, তবে তখন তাঁর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের দেখা হয়নি। এর আগে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন, যার ওপর ভারত ও চিনের তীক্ষ্ণ নজর ছিল।