দীর্ঘ ৬০ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান, আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ আরামবাগের বস্তি

দীর্ঘ ছয় দশকের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হলো হুগলির আরামবাগের একটি বস্তি। আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আন্দীমহল্লায় মঙ্গলবার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং মহকুমার বিচারপতির উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
কী ঘটেছিল?
জানা গেছে, জমির মালিক ১৯৬০ সালে প্রথম আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে ১৯৮৫ সালে আদালত মালিকের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন তিনি। বস্তির বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তাদের পক্ষ নেওয়ায় এতদিন উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার আদালতের নোটিশ নিয়ে পুলিশ ও বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি জেসিবি দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মিত দোকান ও বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়।
হঠাৎ উচ্ছেদে বিপাকে বাসিন্দারা
উচ্ছেদের ফলে বস্তির বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, আগে থেকে কোনো আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তা দেখতেও দেওয়া হয়নি। একজন মহিলা বলেন, “মাথার উপর ছাদটাই সরে গেল। আমরা বিগত ৫০ বছর ধরে এখানে আছি। এখন আমরা কোথায় যাব, আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় থাকবে?” আরেকজন বলেন, “তিল তিল করে বাড়িগুলো তৈরি করেছিলাম, এখন আমরা নিঃস্ব।” তারা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আইনি নোটিশ আগেই দেওয়া হয়েছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।