মোদী-বিরোধিতার জবাবে ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি সামনে আনলেন মালব্য

৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নাম উল্লেখ করা নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তাতে এবার নতুন মোড় এসেছে। কংগ্রেস, সিপিএম এবং সমাজবাদী পার্টির তীব্র সমালোচনার জবাবে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর লেখা একটি চিঠি সামনে এনেছেন।

বিরোধীদের সমালোচনা:
লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাথ অভিযোগ করেন যে তিনি আরএসএস-এর নাম উল্লেখ করে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করেছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মোদীকে ‘মুখে স্বদেশী কিন্তু মনে বিদেশী’ আদর্শে বিশ্বাসী বলে কটাক্ষ করেন। সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও মোদীর এই পদক্ষেপকে ‘ভারতের মূল বৈশিষ্ট্যকে কলঙ্কিত করা’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি সাভারকরের ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

অমিত মালব্যের পাল্টা জবাব:
এই সমালোচনার জবাবে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য ইন্দিরা গান্ধীর লেখা একটি পুরনো চিঠি প্রকাশ্যে এনেছেন। চিঠিতে ইন্দিরা গান্ধী লিখেছেন, “বীর সাভারকরের নাম সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তিনি একজন শাস্ত্রীয় বিপ্লবীর ছাঁচে গড়া ছিলেন এবং অগণিত মানুষ তার কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছেন। তার মৃত্যু সমকালীন ভারতের এক মহান ব্যক্তিত্বকে আমাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।” এই চিঠিটি কার্যত কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধীদের সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জবাব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
অমিত মালব্যের এই পদক্ষেপ বিরোধীদের জন্য এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এতদিন বিরোধীরা সাভারকর এবং আরএসএস-এর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলছিলেন, ইন্দিরা গান্ধীর এই চিঠি সেই যুক্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চিঠি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আসছে।