উপদলীয় কোন্দল রুখতে কড়া অভিষেক, রায়গঞ্জের ফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল এবং কমিটি গঠন নিয়ে সোমবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটে উত্তর দিনাজপুর, বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদের সাংগঠনিক নেতৃত্বদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কমিটি গঠনের ক্ষমতা এখন থেকে শুধুমাত্র শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই থাকবে।
দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকে তিন জেলার দশজন বিধায়ক, জেলা সভাপতি এবং অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও এই বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরু থেকেই অভিষেক বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য বৈঠক ডেকেছেন। আজকের বৈঠক তারই অংশ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দিনাজপুরের নেতৃত্বদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে বিশেষ করে নিজেদের অনুগতদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো নেতা তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী কমিটি গঠন করতে পারবেন না। একইসঙ্গে, তিনি জানিয়ে দেন যে, কোনো বিতর্কিত বা মামলায় অভিযুক্ত নেতাকে কোনো জেলা কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে, দলের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধ এবং নিষ্ঠাবান নেতাদেরই সামনে নিয়ে আসা হবে।
গত লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীর পরাজয় নিয়ে দলের ভেতরে যে অস্বস্তি ছিল, তা এদিন অভিষেকের কথায় উঠে আসে। রায়গঞ্জের অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভার মধ্যে ছয়টিতে তৃণমূল জয়ী হওয়া সত্ত্বেও কেন লোকসভা আসনে হার হল, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রসঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অতীতেও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন।
সূত্রের খবর, অভিষেক রায়গঞ্জের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই এলাকায় সাংগঠনিক রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জের ব্লক সভাপতি, টাউন সভাপতি এবং ছাত্র ও যুব স্তরের কমিটিগুলোতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে দল। এই রদবদলের মাধ্যমে তিনি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে চাইছেন।