দিল্লিতে উত্তাল পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টায় আটক রাহুল-সহ বিরোধী সাংসদরা

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ঘেরাওয়ের চেষ্টা করল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সোমবার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি হয়, যার ফলে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ। এই ঘটনায় তৃণমূলের দুই সাংসদ, মহুয়া মৈত্র এবং মিতালী বাগ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদব-সহ বহু বিরোধী নেতা-নেত্রীকে আটক করে বাসে তোলা হয়।
‘ভোট চুরি’ এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। তারই অংশ হিসেবে আজ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এই সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির কারণে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং মিতালী বাগ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এবং আরও বহু সাংসদকে পুলিশ আটক করে। প্রতিবাদকারীরা ব্যারিকেড টপকে এগোতে চাইলেও পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। রাহুল গান্ধী এর আগে সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন যে শাসকদল বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তবে আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুকে সহজে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আটক নেতাদের পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।