স্কুলে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি! ক্যান্টিনের প্যাটিস খেয়ে ১৭ বছরের ছাত্রের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, আসল সত্যিটা কী?

স্কুলে গিয়ে আর জীবিত বাড়ি ফেরা হলো না ১৭ বছরের এক তরুণ ছাত্রের। জয়পুরের একটি বেসরকারি স্কুলে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র প্রিন্স সোনি। পরিবারের বিস্ফোরক দাবি, স্কুল ক্যান্টিন থেকে বাসি প্যাটিস খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রিন্স স্কুল চত্বরে হেঁটে যাওয়ার সময় আচমকাই থেমে যায়। এরপর এক শিক্ষকের দিকে তাকাতেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কয়েকজন স্কুলকর্মী দ্রুত তাকে একটি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সোফায় শুইয়ে এক শিক্ষক তাকে সিপিআর (CPR) দেওয়ারও চেষ্টা করেন।
তবে ঘটনার পরেই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। প্রিন্সের বাবা অমিত সোনির দাবি, সকাল ১১টার দিকে স্কুল থেকে ফোন করে জানানো হয় ছেলে অসুস্থ। পরবর্তীতে আরও একটি ফোন করে জানানো হয় যে প্রিন্স সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত চার চাকার গাড়ি নিয়ে স্কুলে আসতে বলা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ছাত্রটি অচেতন হয়ে পড়ার পরও তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট তাকে স্কুলেই ফেলে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা স্কুলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রিন্সের মায়ের দাবি, তিনি যখন স্কুলে পৌঁছন, তখন ছেলের সঙ্গে কথা বলার কোনো উপায় ছিল না। তার হাত ও মুখ সম্পূর্ণ ঠান্ডা ও নীল বর্ণ ধারণ করেছিল। এই চরম অবহেলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মৃত ছাত্রের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলে গিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুলিশ ও শিক্ষা দফতরের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে এবং স্কুলের শিক্ষক ও মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ক্যান্টিনের প্যাটিস খাওয়াই ওই ছাত্রের মৃত্যুর সরাসরি কারণ কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পরিবারের করা এই অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সকলে তাকিয়ে রয়েছে।