রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতকে ‘শাস্তি’? আরও ট্যারিফ বাড়ানোর হুমকি দিলেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে ভারত ফের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোষের মুখে পড়েছে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ভারত বিপুল পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনে তা থেকে মুনাফা করছে এবং ইউক্রেন সংকটের বিষয়ে উদাসীন। ট্রাম্প বলেছেন যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর “চড়া ট্যারিফ” বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ এবং ভারতের পাল্টা জবাব:

একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভারত যে শুধু রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তেল কিনছে তাই নয়, সেই তেল আবার বিক্রি করে মুনাফাও কামাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় যে কত মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, তাই নিয়ে ভারতের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। তাই আমিও ভারতের উপর ট্যারিফ বাড়িয়ে দেব।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। নয়াদিল্লি এই মন্তব্যকে “অবিবেচকের মতো ও ভিত্তিহীন” বলে আখ্যা দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তিহীন, কারণ আমেরিকা নিজেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। মন্ত্রক উল্লেখ করেছে যে ২০২৩ সালে আমেরিকা রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে, যখন কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি:

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে, “আমেরিকা নিজেই এখনও রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, রাসায়নিক ও সার আমদানি করছে। আর একদিকে নিজেরাই যখন এত বিপুল পরিমাণে আমদানি করছে, সেখানে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য নিয়ে সমালোচনা করাটা একেবারেই দ্বিচারিতা।”

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া:

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এই ধরনের মন্তব্য আসলে অন্যান্য দেশের উপর চাপ তৈরি করে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নষ্ট করার একটি কৌশল। তিনি বলেন, “আমরা এই ধরনের মন্তব্য ধর্তব্যে আনি না।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ভারত রাশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে এবং রাশিয়া এখন ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ। এই নিয়ে প্রথম থেকেই আমেরিকা আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে নীরব ছিল। তবে এবার ফের ট্রাম্প ট্যারিফকে হাতিয়ার করে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন।