মৃত্যুশয্যায় উত্তম কুমার, চেয়েছিলেন সুচিত্রা সেনকে একটি বার দেখতে! তবুও যাননি মহানায়িকা, কিন্তু কেন?

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার এক অবিসংবাদিত নাম, বাঙালির কাছে তিনি ‘মহানায়ক’। হাজার হাজার দর্শকের মনে তাঁর বাস, বিশেষ করে মহিলা ভক্তদের কাছে তিনি আজও এক আবেগ। তাঁর স্টাইল, অভিনয় এবং ব্যক্তিগত জীবন আজও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। পর্দায় যে সকল অভিনেত্রীর সঙ্গে তিনি জুটি বেঁধেছিলেন, তাঁদের সবার মনেই তিনি বিশেষ ছাপ রেখে গিয়েছিলেন। তবে উত্তম-সুচিত্রা জুটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে যে স্থান করে নিয়েছে, তা অন্য কোনো জুটির ক্ষেত্রে বিরল। এই জুটিকে নিয়ে যুগে যুগে দর্শকদের মনে ভালোবাসা এবং আগ্রহ আজও অমলিন।
উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের সম্পর্ক নিয়ে বহুবার নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনবদ্য রসায়ন শুধু পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, পর্দার বাইরেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক গুজব ও গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। কেউ কেউ তাঁদের পরকীয়ার সম্পর্কের কথা বলেছেন, আবার কেউ-কেউ তাঁদের গভীর বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। তবে এই সব জল্পনা-গুঞ্জন সত্ত্বেও দর্শকরা বারবার তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় দেখতে চেয়েছেন।
হঠাৎই থেমে গিয়েছিল মহানায়কের পথচলা। তাঁর হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ার পর শুটিং সেট থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে উত্তম কুমার তাঁর প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী সুচিত্রা সেনকে একবার চোখের দেখা দেখতে চেয়েছিলেন। এই খবর সুচিত্রা সেনকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তিনি যথা সময়ে উত্তম কুমারের কাছে যেতে পারেননি। সেই সময় তিনি শুটিং শিডিউলে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, তাঁর কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। উত্তম কুমারের মৃত্যুর সাত দিন পরই তাঁর শেষ ইচ্ছে অপূর্ণ রেখেই তিনি প্রয়াত হন।
উত্তম কুমারের চলে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সুচিত্রা সেন নিজেকে সবার থেকে আড়াল করে নেন। তিনি এক প্রকার স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন। কাছের কিছু মানুষ ছাড়া আর কারও সঙ্গেই তিনি দেখা করতেন না। উত্তম কুমারের চলে যাওয়া যেন তাঁর জীবনেও এক গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার জেরে তিনি নিজেকে চলচ্চিত্র জগত থেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছিলেন। আজও এই দুই মহান তারকার অসমাপ্ত গল্পটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক বিষণ্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।