“যারা মৃত্যুদণ্ড আটকাতে চাইছেন..?”-‘ব্লাড মানি’ চাইছে না মৃতের পরিবার, নিমিশার ফাঁসি কি হবে রদ্?

ইয়েমেনের নাগরিক তালাল আবদো মাহদি হত্যার দায়ে ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসির সাজা কার্যকরের দাবি জোরালো হচ্ছে। বুধবার, ১৬ই জুলাই তার ফাঁসি হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। তবে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ নিহত মাহদির পরিবার কোনো পরিস্থিতিতেই আপস করতে প্রস্তুত নয়।

বুধবার নিহত আবদো মাহদির ভাই আবদেল ফাত্তাহ মাহদি শেষ মুহূর্তে ফাঁসি স্থগিতের বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। অনলাইনে একটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘যারা মৃত্যুদণ্ড আটকাতে চাইছেন তারা খুব ভালো করেই জানেন পরিবার আপস করবে না। মধ্যস্থতা এবং আপস করানোর ক্ষেত্রে এখন যা হচ্ছে তা নতুন বা আশ্চর্যজনক নয়। এই মামলায় মধ্যস্থতার জন্য প্রচুর প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তাতে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।’

আবদোর ভাইয়ের এই কঠোর অবস্থান নিমিশা প্রিয়ার পরিবারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তারা ‘ব্লাড মানি’ বা রক্তের বিনিময়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আলোচনার সময় পেলেও, মাহদির ভাইয়ের মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিবার ‘রক্তমূল্যে’ আপস করতে রাজি নয়। মাহদি তার পোস্টে নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে লিখেছেন, ‘রক্ত কেনা যায় না, ন্যায়বিচার ভুলে যাব না। যত দূর যেতে হয় যাব, তবে শাস্তি হবেই।’

শেষ মুহূর্তে ফাঁসি স্থগিতের কারণ:
নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি ১৬ই জুলাই হওয়ার কথা থাকলেও, কেরালার একজন বিশিষ্ট মুসলিম ধর্মগুরুদের হস্তক্ষেপের কারণে এটি স্থগিত করা সম্ভব হয়। কেরল জামে-ইয়্যাতুল উলামার সাধারণ সম্পাদক এবং ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি নামে পরিচিত ৯৪ বছর বয়সী কাঁথাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ারের প্রচেষ্টায় ১৬ই জুলাই নিমিশার জীবন সাময়িকভাবে রক্ষা পায়। জানা গেছে, ইয়েমেনের প্রভাবশালী সুফি ধর্মগুরুদের সঙ্গে কাঁথাপুরমের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে, যা এই স্থগিতাদেশ পেতে সহায়ক হয়েছে।

এর আগে, গত ১১ই জুলাই কেরালার বিধায়ক চান্ডি ওমেন নিমিশার মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের চেষ্টা শুরু করেন। এই বিষয়ে কাঁথাপুরম ইয়েমেনি সুফি পণ্ডিত শেখ হাবিব উমর বিন হাফিজের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন, যাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিদ্যমান।

যদিও ফাঁসি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে, কিন্তু মাহদির পরিবারের অনমনীয় মনোভাব নিমিশা প্রিয়ার জীবনের ওপর কালো মেঘ হয়েই রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নিমিশার পরিবার এবং ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তার জীবন বাঁচাতে কতটা সফল হয়।