২১ জুলাইয়ের সভার আগে ফের অস্বস্তিতে TMC! শিক্ষকদের আটকাতে প্রেক্ষাগৃহের গেটে পড়ল তালা

ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের মহাসভার আগে আবারও অস্বস্তিতে পড়ল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার (১৬ই জুলাই, ২০২৫) দলের শিক্ষা সেলের উত্তর ২৪ পরগনা শাখা আয়োজিত ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় শিক্ষকদের আটকাতে রবীন্দ্রভবন প্রেক্ষাগৃহের গেটে তালা দিতে বাধ্য হলেন আয়োজকরা। শিক্ষকদের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সভায় উপস্থিত রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ।
বারাসতের রবীন্দ্রভবন প্রেক্ষাগৃহে তৃণমূলের শিক্ষা সেলের এই প্রস্তুতি সভায় বুধবার প্রথম থেকেই উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। কিছুক্ষণ পর সেখানে যোগ দেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সভা শুরুর সময় প্রেক্ষাগৃহ কানায় কানায় পূর্ণ থাকলেও, কিছুক্ষণ পর থেকেই শিক্ষক ও অধ্যাপকরা একে একে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। দ্রুত খালি হতে থাকে প্রেক্ষাগৃহ। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহের অর্ধেকের বেশি আসন শূন্য হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকরা বাধ্য হয়ে প্রেক্ষাগৃহের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এর ফলে কিছু শিক্ষক বাধ্য হয়ে ফের প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসেন।
এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি বলেন, সংগঠনের প্রতি এইরকম দায়বদ্ধতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তৃণমূলের এই সভায় এমন কাণ্ড ঘটায় বিজেপি তীব্র কটাক্ষ করেছে। শিক্ষক তথা রাজ্য বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “শিক্ষক তো দূরের কথা, কোনো শিক্ষিত মানুষ আর তৃণমূল নেতাদের পাশে দাঁড়াতে চান না। চাকরি চুরি, গরিব মানুষের টাকা চুরি, খুন, ধর্ষণে অভিযুক্তদের পাশে কে দাঁড়াবে? তৃণমূল প্রতিহিংসাপরায়ণ দল। তাদের সভায় না গেলে চাকরি ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে, তাই শিক্ষকরা হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। যতটুকু সময় না থাকলে নয়, সেটুকুই থেকে মানে মানে বেরিয়ে এসেছেন। কোনো শিক্ষিত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এই চোর – বাটপারদের পাশে থাকতে পারে না।”
এই ঘটনা ২১ জুলাইয়ের সভার আগে তৃণমূলের সংগঠনিক দুর্বলতা এবং কর্মীদের মধ্যে দায়বদ্ধতার অভাবকেই তুলে ধরছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিজেপির এই কটাক্ষ এবং শিক্ষকদের এই আচরণ শাসকদলকে নতুন করে বিড়ম্বনায় ফেলেছে।