জল বাড়তেই হুড়মুড়িয়ে ভাঙছে পদ্মার পাড়…! হতাশায় গ্রামবাসীরা, পুরো ঘটনা জানলে গায়ে কাঁটা দেবে আপনারও

গঙ্গা ও পদ্মা নদীর ভাঙন মুর্শিদাবাদের ইতিহাসে এক চিরন্তন সমস্যা। বর্ষার শুরুতেই পদ্মায় জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফের ভাঙন শুরু হয়েছে, যা লালগোলার তারানগরের গ্রামবাসীদের জীবনকে চরম আতঙ্কে ফেলেছে। অনেকেই ইতিমধ্যেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছেন, এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে প্রশাসনের উপর – কারণ, তাদের অভিযোগ, ভাঙন রোধের জন্য আজও কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

রাত জাগছে তারানগর, বাড়ছে আতঙ্ক:

মুর্শিদাবাদের এই নদী তীরবর্তী এলাকার গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। এর ফলস্বরূপ, অল্প অল্প করে পদ্মার পাড় ভাঙতে শুরু করেছে, যা এলাকার মানুষকে ভীষণভাবে আতঙ্কিত করে তুলেছে। রাতের বেলায় তাদের চোখে ঘুম নেই, কারণ যেকোনো মুহূর্তে তাদের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট পদ্মার গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে হুড়মুড়িয়ে ভাঙছে পদ্মার পাড়, যা দেখলে গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য।

স্থায়ী সমাধানের অভাব, অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে:

গ্রামবাসীদের প্রধান অভিযোগ হলো, প্রশাসন ভাঙন রোধের জন্য কোনো স্থায়ী বা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের দাবি, সঠিকভাবে ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে না, যার ফলস্বরূপ প্রতি বছর বর্ষার সময় একই চিত্র দেখা যায়। বর্ষার সময় জলস্তর বৃদ্ধি ও কমার সময় উভয় পর্যায়েই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন ভাঙনের গ্রাসে পড়ে। এই ক্রমাগত হুমকির মুখে তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়েই দিন যাপন করতে হয়।

পূর্ববর্তী ট্র্যাজেডি ও বর্তমান পরিস্থিতি:

উল্লেখ করা যেতে পারে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লালগোলার তারানগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা ভাঙন একটি নিয়মিত ঘটনা। গত বছর এই পদ্মা ভাঙনের সময় নদীতে তলিয়ে গিয়ে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়াও, বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, যারা নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

বর্তমানে ভাঙনের আতঙ্ক তারানগরের বাসিন্দাদের মধ্যে এতটাই প্রবল যে, সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে তাদের একটাই আবেদন – এবার অন্তত ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে পদ্মা পারের মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত থাকে।