ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন? ফাঁস চমকে দেওয়া তথ্য!

গত ১২ই জুন আমদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ২৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর তদন্ত যখন গতি পাচ্ছে, তখনই একটি নতুন প্রতিবেদন পুরো ঘটনাকে ভিন্ন মোড় দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের কথোপকথনে ইঙ্গিত মিলেছে যে, স্বয়ং ক্যাপ্টেনই বিমানের ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, যার ফলেই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ফার্স্ট অফিসার টেকঅফের কিছুক্ষণ পরই বিস্মিত কণ্ঠে সিনিয়র পাইলটকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি ফুয়েল সুইচ বন্ধ করলেন কেন?” আশ্চর্যজনকভাবে, ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল (১৫,৬৩৮ ঘণ্টা ফ্লাইং অভিজ্ঞতা) এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি এবং নীরব ছিলেন। ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর (৩৪০৩ ঘণ্টা ফ্লাইং অভিজ্ঞতা) তখন বেশ অবাক হয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটসের (এফআইপি) অসন্তোষের মধ্যেই প্রকাশিত হলো, যারা এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমান দুর্ঘটনার পর আসা প্রাথমিক প্রতিবেদন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবি সামনে আসার পর ফের একবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, সিনিয়র পাইলট কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের ফুয়েল সুইচ বন্ধ করেছিলেন? যদিও ভারতীয় তদন্ত সংস্থার রিপোর্টে এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানির সুইচ বন্ধ করার পর ফার্স্ট অফিসার পাইলট আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু সিনিয়র পাইলট শান্ত ছিলেন এবং কোনো সাড়া দেননি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, একজন অভিজ্ঞ পাইলট এমন সিদ্ধান্ত কেন নেবেন এবং ফার্স্ট অফিসারের প্রশ্নের উত্তর কেন দেবেন না?
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এই দুর্ঘটনা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ভারতীয় তদন্ত সংস্থা। সেই প্রতিবেদনে পাইলটদের মধ্যে কথোপকথনের উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে কোন পাইলট কী বলেছেন, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন রিপোর্টের পর আমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে – কীভাবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের হাতে ভারতীয় তদন্তের এমন বিশদ তথ্য চলে যাচ্ছে? এই তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়েও বর্তমানে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে, যা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।