বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুবতীর সঙ্গে সহবাস, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরই বন্ধ যোগাযোগ! গ্রেফতার যুবক

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীর সঙ্গে সহবাস এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সম্পর্ক ছিন্ন করার অভিযোগে জয়েন্ত দাস (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকতলা থানা এলাকায়, যা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ধৃত জয়েন্ত দাসের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা এলাকায়। বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে শিয়ালদা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৩০শে জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বেশ কিছু বছর আগে ২৪ বছর বয়সী ওই যুবতীর সঙ্গে জয়েন্তর পরিচয় হয়। সেই সম্পর্ক পরবর্তীতে প্রেমে রূপান্তরিত হয়। যুবতীর অভিযোগ, এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই জয়েন্ত তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং একাধিকবার তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এর ফলে যুবতী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
যুবতীর দাবি, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানার পর থেকেই জয়েন্ত ধীরে ধীরে তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। একপর্যায়ে তিনি ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন এবং সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। নিরুপায় হয়ে ওই যুবতী মানিকতলা থানার দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ জয়েন্ত দাসকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং পরবর্তীতে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। এর আগেও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক শিক্ষিকার সঙ্গে সহবাসের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া, শিলিগুড়িতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে বিয়ের দিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনাগুলি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাবকেই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।