“বাঙালি হেনস্থা” বিতর্কের পরই উত্তরপ্রদেশের পুণ্যার্থীদের বাস আটক, নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি

“ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা” নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটছেন, ঠিক তখনই বীরভূমের মল্লারপুরে উত্তরপ্রদেশের পুণ্যার্থীদের একটি বাস আটক করে পরিবহণ দফতর। বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই বাসটিকে আটকানো হয়, যা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এটি শাসক দলের ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ’, যা ‘বাঙালি হেনস্থা’র পাল্টা জবাব।

১০ ঘণ্টা আটক, ২ লক্ষ টাকার মুচলেকা:

ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে। গোরক্ষপুর থেকে তারাপীঠের দিকে আসছিল পুণ্যার্থীদের ওই বাসটি। মল্লারপুরে পরিবহণ দফতরের চেকিংয়ে বাসটির বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেটিকে আটকানো হয়। এর জেরে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে, বুধবার দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, ৭০ জন পুণ্যার্থী মল্লারপুরের অন্ধকার কিষাণ মান্ডির ভিতরে বাসের মধ্যেই আটকে ছিলেন।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের বাস বলেই এভাবে আটকানো হয়েছে, যা ‘শিবভক্তদের হেনস্থা’ করার শামিল। রাত ১০টা নাগাদ বিজেপি কর্মীরা পুণ্যার্থীদের নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষোভ সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। শেষ পর্যন্ত, মল্লারপুর থানার পুলিশ বাস চালককে দিয়ে উত্তরপ্রদেশে ফিরে অনলাইনে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার মুচলেকা লিখিয়ে বাসটি ছাড়ে।

মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলের পরই বিতর্ক:

এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন গতকালই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাঙালি হেনস্থা’র গুরুতর অভিযোগ নিয়ে কলকাতায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ‘বাংলাদেশী’ বলে হেনস্থা করা হচ্ছে, এই অভিযোগ নিয়ে কলেজ স্ট্রিট থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্বরা। আর তার ঠিক পরেই বাংলার মাটিতে উত্তরপ্রদেশের বাস আটকানোর ঘটনা ঘটায় বিরোধী দল সরাসরি শাসক দলের দিকে আঙুল তুলেছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:

বীরভূমের বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “উত্তরপ্রদেশের বলেই এভাবে আটকানো হয়েছে। শিবভক্তদের এভাবে হেনস্থা করে এক বিশেষ শ্রেণির মানুষকে খুশি করতে চাইছে বাংলার শাসক দল।” তিনি একে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।

অন্যদিকে, বীরভূমের তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “অনেকেরই বৈধ কাগজ থাকে না। এরা পারমিট নেওয়ার তোয়াক্কা করে না। পারমিট ছাড়াই রাজ্যে ঢোকে। পুলিশ মাঝে মাঝে নাকা চেকিং করে। সেখানে ধরা পড়ে। তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফাইন করা হয়। বিজেপি এটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে চাইছে।”

এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ‘বাঙালি হেনস্থা’ বনাম ‘আইন প্রয়োগের নামে হেনস্থা’—এই দুই বিতর্কের চাপানউতোর আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও তীব্র হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।