দেশজুড়ে সক্রিয় বর্ষা, সপ্তাহজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস; মধ্য ভারত ও উপকূলে লাল সতর্কতা

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, দেশজুড়ে মৌসুমী বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মধ্য ভারত এবং পশ্চিম উপকূলে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে কমলা ও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইএমডি বিজ্ঞানী নরেশ কুমারের মতে, বর্তমানে দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে— একটি মধ্যপ্রদেশে এবং আরেকটি উত্তর ওড়িশা ও সংলগ্ন এলাকায়। এই অনুকূল পরিস্থিতিই দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ।
কোথায় কী পূর্বাভাস?
মধ্য ভারত ও পশ্চিম উপকূল: এই অঞ্চলগুলিতে “কমলা” বা “লাল” সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পূর্ব রাজস্থান: আজ (বৃহস্পতিবার) পূর্ব রাজস্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি: আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দিল্লিতে বর্ষার পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে কয়েকদিন ধরে মেঘলা আকাশ এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ): বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ অন্যান্য জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতার তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (সর্বোচ্চ) এবং ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (সর্বনিম্ন) থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সপ্তাহজুড়েই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির কথা জানিয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, “প্রায় সমগ্র মধ্য ভারত এবং পশ্চিম উপকূলে কমলা বা লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে… সামগ্রিকভাবে, আমরা বলতে পারি যে বর্ষা সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় সারা সপ্তাহজুড়ে ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।”
আগেভাগে বর্ষার আগমন:
উল্লেখ্য, এই বছর ২৯ জুন ভারতে বর্ষার আগমন ঘটেছে, যা এর প্রত্যাশিত তারিখ (৮ জুলাই) থেকে আট দিন আগে। আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ইতিমধ্যেই রাজস্থান, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার অবশিষ্ট অংশে আরও অগ্রসর হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের এই সময়োপযোগী সতর্কবার্তা প্রভাবিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং বর্ষাজনিত ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত দেশের বিভিন্ন অংশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।