জামাইষষ্ঠীতে এই ফল ছাড়া বরণডালা কিন্তু অসম্পূর্ণ, জামাইয়ের মঙ্গলের জন্য অবশ্যই জেনেনিন

বাঙালির ঘরে জামাইষষ্ঠী এক বিশেষ উৎসব, যা শ্বশুর-শাশুড়ি এবং জামাই-মেয়ের পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে সাধারণত মে বা জুন মাসে পড়ে। এই বছর, ২০২৫ সালের ১লা জুন, রবিবার পালিত হবে এই আনন্দময় দিনটি।

জামাইষষ্ঠীর তাৎপর্য ও ঐতিহ্য
জামাইষষ্ঠী শুধু একটি উৎসব নয়, এটি জামাইকে সম্মান জানানোর এবং পরিবারের সকলকে একত্রিত করার একটি বিশেষ উপলক্ষ। এই দিনে শাশুড়ি তাঁর জামাই ও মেয়েকে সাদর আমন্ত্রণ জানান। জামাই তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসেন, যেখানে শাশুড়ি উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন।

জামাইষষ্ঠীর শুরুতেই শাশুড়ি বরণের থালি নিয়ে জামাইকে বরণ করেন। এই থালিতে অবশ্যই করমচা রাখতে হয়, যা ছাড়া বরণের থালি অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। এরপর শাশুড়ি জামাইকে কপালে তিলক পরিয়ে দেন এবং আশীর্বাদস্বরূপ তাঁর কব্জিতে একটি হলুদ সুতো বেঁধে দেন। কর্পূর দিয়ে আরতি করার পর জামাই শাশুড়ির পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এই প্রথাগুলো শাশুড়ি ও জামাইয়ের মধ্যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

দেবী ষষ্ঠীর আরাধনা ও ভূরিভোজ
জামাইষষ্ঠীর দিনে শাশুড়ি তাঁর পরিবারের মঙ্গল কামনায় দেবী ষষ্ঠীর পুজো করেন। এই সময় দেবী ষষ্ঠীর উদ্দেশ্যে পাঁচ ধরনের ফল, ফুল, চাল এবং সিঁদুর নিবেদন করা হয়। পুজো শেষে শুরু হয় মূল আকর্ষণ – ভূরিভোজ।

শাশুড়ি আগে থেকেই তাঁর জামাইয়ের পছন্দের বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু পদ রান্নার প্রস্তুতি নেন। জামাইয়ের প্রিয় খাবার পরিবেশন করা হয়, যা এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বিনিময়ে, জামাইও তাঁর শাশুড়ির জন্য বিভিন্ন ধরনের উপহার নিয়ে আসেন। এছাড়াও, মেয়ে এবং জামাইয়ের জন্য নতুন পোশাক, শাড়ি, এবং কখনও কখনও সোনার গয়নাও কেনা হয়। প্রতিটি বাঙালি পরিবারে এই শুভ দিনটি আনন্দ, উল্লাস এবং রকমারি খাবারের মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়।

জামাইষষ্ঠী শাশুড়ি এবং জামাইয়ের মধ্যে এক দৃঢ় বন্ধনের প্রতীক, যেখানে শাশুড়ি তাঁর জামাইকে সুখ, সমৃদ্ধি এবং সাফল্যের আশীর্বাদ করেন। এই উৎসব পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করে এবং সকলের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।