“দেশের মানুষের জানার অধিকার ….?”-‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কেন্দ্রকে যা বলল TMC

পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলার প্রেক্ষিতে ভারত সরকারের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময় বিরোধী দলগুলো যখন কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়েছিল, এবার সেই অভিযান নিয়েই সংসদে আলোচনার দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনা এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে কেন্দ্রকে প্রশ্ন করতে চাইছে তৃণমূল। এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে তারা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার তৃণমূলের দুই সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার ও সাগরিকা ঘোষ এক সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা দাবি জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে কেন্দ্রকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হবে। তাঁদের মতে, দেশের জনগণের এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার অধিকার রয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, জুনের মধ্যেই এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা উচিত, বাদল অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।

তৃণমূল সাংসদরা ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত টেনে এনে তাঁদের দাবিকে জোরালো করেছেন। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনা করেছিলেন এবং কার্গিল যুদ্ধের পরেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীও বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিলেন। তৃণমূলের বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত কোনো যুদ্ধের থেকে কম কিছু নয়, তাই ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সংসদের আলোচনা অপরিহার্য। তাঁদের মতে, সর্বদলের সর্বসম্মত সমর্থন পেতে সংসদের অধিবেশনই সর্বোচ্চ ক্ষেত্র, এবং কী ঘটেছে তা জানার অধিকার দেশবাসীর আছে।

বিশেষ অধিবেশনের দাবি নিয়ে অন্য দলের সঙ্গে কথা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমরা দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ দল। এটা ধরেই নেওয়া যায় আমাদের দলনেত্রী এই বিশেষ অধিবেশন নিয়ে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলছেন। কিন্তু কী কথা হচ্ছে তা এখনই বলা যাবে না।”

‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচার প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ওরা ওদের রাজনৈতিক মতামত নিয়ে ঘুরছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রচারে রাজনীতি রয়েছে। যুদ্ধে যাতে সন্ত্রাসবাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে আমরা সব রকম সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এই যুদ্ধকে সৈন্যদের স্বার্থত্যাগ বা কৃতিত্ব না দেখিয়ে, উনি এমন ভাবে দেখাচ্ছেন যেন যুদ্ধটা উনি করেছেন।”

আরেক সাংসদ সাগরিকা ঘোষও একই সুরে বলেন, “অপারেশন সিঁদুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অভিযান ছিল, যা আমাদের সেনাবাহিনীর সাহসিকতা দেখিয়েছে। কিন্তু বিজেপি যা করছে, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক নাটক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নাটকের অভিনয় বলে মনে হচ্ছে। আমরা জবাব চাই। সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম আত্মত্যাগকে ছোট করছে বিজেপি।”

সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও পহেলগাঁও হামলাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এই বিশেষ অধিবেশনের দাবি কেন্দ্র কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।