OMG! ট্রেনের পরিত্যক্ত কামরায় নাবালিকাকে ধর্ষণ! অভিযোগ বাবার বন্ধুর বিরুদ্ধে

নিউ জলপাইগুড়িতে (এনজেপি) নৃশংসতার এক জঘন্য ঘটনায় তোলপাড় গোটা এলাকা। বন্ধুর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েকে রেলের একটি পরিত্যক্ত কামরায় হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রেল পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিলিগুড়ির রেল পুলিশ সুপার কুনওয়ারভূষণ সিং মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে রেলকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে ফাঁকা ইয়ার্ডে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

জানা গেছে, নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা এনজেপি এলাকার একটি হোটেলের রাঁধুনি এবং মা পরিচারিকার কাজ করেন। সোমবার দিনের বেলায় তাঁরা কেউই বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে অভিযুক্ত দুপুর ১টা নাগাদ তাঁদের বাড়িতে আসে। নাবালিকার মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাঁদের পূর্বপরিচিত এবং সে নাবালিকাকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার নাম করে জোর করে নিয়ে যায়। প্রথমে রাজি না হলেও পরে নাবালিকা তার সঙ্গে যেতে সম্মত হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত নাবালিকাকে এনজেপি ডিএস কলোনির রেল ইয়ার্ডে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত রেলের বগিতে তুলে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মেয়েটার হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেছে ওই লোকটা, তারপর সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।” অভিযুক্ত নাবালিকাকে এই বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

বিকেলে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে রাস্তায় বিধ্বস্ত অবস্থায় মেয়ের দেখা পান তিনি। মেয়ের কাছ থেকে সবটা জানার পর সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহায়তায় এনজেপি থানায় যান তিনি। সেখান থেকে তাদের এনজেপি জিআরপি (রেল পুলিশ) থানায় পাঠানো হয়, যেখানে রাতেই অভিযোগ দায়ের করা হয়। নির্যাতিতাকে জলপাইগুড়ি সেফ হাউসে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তার শারীরিক পরীক্ষার পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্যাতিতার বাবার দীর্ঘদিনের পরিচিত। আগে তারা দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে একসঙ্গে থাকত। অভিযুক্তের বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। এই পরিচিতির সুবাদেই দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াত ছিল এবং সেই সুযোগেরই অপব্যবহার করে অভিযুক্ত এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় شدید ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। রেল পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় রেল ইয়ার্ড ও পরিত্যক্ত কামরাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।