পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচার শুরু ভারতের, টোকিও ও আবুধাবিতে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল

পাকিস্তান সরকারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত জোগানোর বিষয়টি বিশ্বকে বোঝাতে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রচার শুরু করল ভারত। বৃহস্পতিবারই পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই দিনই দুটি প্রতিনিধি দলের একটি জাপানের টোকিওতে এবং অন্যটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে পৌঁছেছে। সফরের অংশ হিসেবে জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিক সিনিয়র ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার হিরোইউকি নামাজু-এর সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী।

‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রতিনিধি দল
গত ১০ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ স্থগিত হওয়ার পর পাকিস্তান সরকারের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে অন্য দেশগুলিতে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি সরকার। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এদিন জেডি(ইউ) সাংসদ সঞ্জয় ঝা-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জাপানের টোকিওতে যায়। এই দলেই রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছেলে শ্রীকান্ত শিন্ডে-এর নেতৃত্বে অন্য প্রতিনিধি দলটি পৌঁছেছে আবুধাবিতে। এই দুটি দলই সংশ্লিষ্ট দু’দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে।

টোকিওর প্রতিনিধি দলে অভিষেক ছাড়াও রয়েছেন বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা ষড়ঙ্গি, সাংসদ প্রধান বড়ুয়া এবং হেমাঙ্গ জোশী, কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদ, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মোহন কুমার।

জাপানে ভারতের বার্তা ও জাপানের সমর্থন
জাপানে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “প্রতিনিধি দল জাপানের বিদেশমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়ার সঙ্গে দেখা করেছে। যে কোনো রকম সন্ত্রাস দমনে ভারতের ঐকমত্য এবং দায়বদ্ধতার কথা ফের তুলে ধরা হয়েছে। জাপানের বিদেশমন্ত্রীও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের এই লড়াইকে সমর্থন জানিয়েছেন। ভারত যে সংযম দেখিয়েছে, তার প্রশংসাও করে মন্ত্রী জঙ্গিদের কঠোর সাজা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।” এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা টোকিওর এদোগাওয়ায় মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।

আরব আমিরাতে আলোচনা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অঙ্গীকার
এদিকে, আরব আমিরাতের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুরে’র বার্তা নিয়ে ভারতীয় সাংসদদের প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছেছে। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করা হয়েছে।

ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, “আমরা দু’দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। ডঃ একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল আবু ধাবিতে দেশের মন্ত্রী শেখ নাহায়ান বিন মুবারক আল নাহায়ান-এর সঙ্গে আলোচনা করেছে। সেই বৈঠক ফলপ্রসূও হয়েছে। যে কোনো রকম সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখতে দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ – এই বিষয়টি ফের নিশ্চিত করা হয়েছে।”

এই দলে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ মনন কুমার মিশ্র, বিজেডির সস্মিত পাত্র, আইইউএমএলের ইটি মহম্মদ বশির, বিজেপি নেতা এসএস আলুওয়ালিয়া, বিজেপির অতুল গর্গ, বাঁশুরি স্বরাজ, প্রাক্তন কূটনীতিক সুজয় আর চিনয় এবং আরব আমিরাতে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় সুধীর।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরতে টোকিওতে পৌঁছান বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী। তিনি সিনিয়র ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার হিরোইউকি নামাজুর সঙ্গে দেখা করেন। সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ক নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। এছাড়াও জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের উপ-মন্ত্রী টাকেনহিরো ফুনাকোশি-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় মিস্রীর। তাঁরা ভারত-জাপান বিশেষ কৌশল এবং বিশ্ব অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

ভারতের এই সর্বদলীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী মদত নিয়ে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আপনার মনে হয়?