প্রধানশিক্ষকসহ ৫ জনকে নির্বিচারে খুন! মণিপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের নেপথ্যে কারা?

মণিপুরে হিংসার আগুনে ফের পুড়ল রাজপথ। বৃহস্পতিবার কাংপোকপি জেলার ইম্ফল-তামেংলং সড়কে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় নাগা সম্প্রদায়ের পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্কুলের প্রধানশিক্ষকও রয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেই উপত্যকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং নাগা নেতাদের অভিযোগের আঙুল উঠেছে কুকি জঙ্গিদের দিকে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঘটা ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। মাকুই আশং এবং থানাম্বা নাগার মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ নাগা নাগরিকদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিশিষ্ট নাগা নেতা তথা মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী লোসি দিকো। তিনি একে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, কাংপোকপির নাগা অধ্যুষিত গ্রামে চিকিৎসক দলের ওপর চড়াও হয়ে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ সামনে এসেছে।
এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে দীর্ণ মণিপুরে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়া চলাকালীন এই নতুন রক্তপাত রাজ্য সরকারকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। অবৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে। ঠিক তার পরেই বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে বসেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। অবৈধ অস্ত্রধারী এবং ক্যাম্পের বাইরে অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করা এসওও (SoO) ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হামলাকারীদের খুঁজে বের করে নিরাপত্তা বাহিনীকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সমস্ত পক্ষকে হিংসার পথ ছেড়ে শান্তির পথে হাঁটার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।