BJP নেতার প্রেমে মগ্ন TMC কর্মীর স্ত্রী! স্বামী সন্তান ছেড়ে নেতার সঙ্গে পলাতক মহিলা, অতঃপর….

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে এক অবাক করা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এক তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী’র প্রেমে মজে ঘর-সংসার, সন্তানদের কথা ভুলে পালিয়ে গিয়েছেন স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। এই ঘটনা ঘিরে শনিবার দিনভর তোলপাড় চলল হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৈলাসনগর গ্রামে। বিষয়টি জানতে পেরে শনিবারই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বধূর স্বামী। এই ঘটনা নিয়ে এখনও কোনও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পেশায় টোটোচালক এবং তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ওই স্বামী জানিয়েছেন, ক’দিন আগে হঠাৎ তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে যান। প্রথমে তিনি থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু শনিবার তিনি জানতে পারেন যে তার স্ত্রী নিখোঁজ হননি, তিনি স্থানীয় এক বিজেপি নেতার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দুই নাবালক ছেলেমেয়েকে নিয়ে কী করবেন, তা বুঝে উঠতে না পেরে তিনি এদিন হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী’কে অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানান, দু’জনের পরিচয় নাকি হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। পলাতক বধূর বাড়ি থেকে মাত্র ৭০ মিটার দূরে বিজেপির একটি পার্টি অফিস রয়েছে এবং ওই বিজেপি নেতা সেখানে নিয়মিত আসতেন। সম্ভবত সেই সূত্রেই দু’জনের মধ্যে নিয়মিত দেখা হত এবং কথাবার্তা চলত। কিন্তু, দু’জন যে ঘর-সংসার, সন্তানদের কথা ভুলে বাড়ি থেকে পালিয়ে শিলিগুড়ি চলে যাবেন, সেটা পাড়া-প্রতিবেশীরা বা পরিবারের কেউই ভাবতে পারেননি।
পলাতক বধূর স্বামীর বক্তব্যে উঠে আসে তার অসহায়তা। তিনি বলেন, “চারদিন ধরে বউয়ের কোনও সন্ধান পাচ্ছি না ৷ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছি ৷ আজ জানতে পারি, ও বিজেপি নেতার সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে ৷ ওদের মধ্যে সম্পর্কের কথা কোনওদিন জানতে পারিনি ৷ সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল ৷ আমাদের বাড়ি থেকে ৫০ মিটার দূরে বিজেপির পার্টি অফিস ৷ ওই নেতা মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন ৷ আমার ধারণা, সেখান থেকেই দু’জনের প্রেম ৷” তিনি আরও বলেন, “আমার ন’বছরের ছেলে আর পাঁচ বছরের মেয়ে আছে ৷ এখন কী করব বুঝে উঠতে পারছি না ৷ মা’কে ছাড়া ওরা থাকতে পারছে না ৷ আমি চাই, পুলিশ আমার বউকে উদ্ধার করে নিয়ে আসুক ৷ আমি ওই নেতার শাস্তির দাবি করছি ৷ আমি সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ৷ একজন বিজেপি নেতা এমন কাজ করবে, ভাবতে পারছি না ৷ নেতা হয়ে এমন করলে সাধারণ মানুষ কী করবে ?”
পলাতক বধূর মা বলেন, “আজই শুনলাম, আমার মেয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে ৷ ছেলেমেয়ে নিয়ে জামাই বাড়িতে রয়েছে ৷ শুনেছি, যার সঙ্গে মেয়ে পালিয়েছে সে আবার বিজেপির নেতা ৷ ওদের মধ্যে কীভাবে সম্পর্ক হয়েছে আমরা জানি না ৷ ওরা নাকি এখন শিলিগুড়িতে আছে ৷ ওর দুটো ছেলেমেয়ে আছে ৷ ওদের কথাও কী একবার মনে এল না ? জামাইয়ের সঙ্গে মেয়ের কোনও ঝামেলা ছিল না ৷ দু’জনের সম্পর্ক ভালোই ছিল ৷ আমার মেয়ে যে এমন কাজ করবে, কোনওদিন ভাবিনি ৷” অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীর মা বলেন, “এক বাড়িতে থাকলেও আমার ছেলে স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকে ৷ ওদের একটা দু’বছরের মেয়ে আছে ৷ ওরা আলাদা খায়, আমি আলাদা ৷ ছেলে এখন বাড়িতে নেই ৷ ও কাকে নিয়ে কোথায় গিয়েছে, বলতে পারব না ৷ আমি গোটা ঘটনা সঠিক জানি না ৷ তবে শুনেছি, আমার ছেলে শিউলি নামে একটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে ৷ সম্প্রতি বউয়ের সঙ্গে ওর একটু মন কষাকষি চলছিল ৷ আমার ছেলে বিজেপির নেতা ৷ আমরা সবাই বিজেপি করি ৷”
ঘটনা প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার এক আধিকারিক বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে ৷ দু’জনের সন্ধান পেতে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে ৷ আশা করছি, দ্রুত দু’জনকেই উদ্ধার করা যাবে ৷”
সব মিলিয়ে, হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ঘটনায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে রাজনৈতিক রঙও যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পুলিশ পলাতক যুগলের সন্ধান চালাচ্ছে।