রাজ্যের স্কুল খুলবে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে? নতুন নির্দেশিকা জারি করলো সরকার

এবছর গ্রীষ্মের দাবদাহে যেন পুড়ছে গোটা দেশ, পারদ যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছে অতীতের সমস্ত রেকর্ড। প্রখর রোদ আর তাপপ্রবাহে নাজেহাল অবস্থা রাজ্যবাসীর। এমন চরম পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গরমের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জানা যাচ্ছে, তাপপ্রবাহের কারণে এবার দেশের প্রায় বেশিরভাগ রাজ্যের স্কুল খুলবে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে।
গরমে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তাতে স্কুলের পড়ুয়ারা হিটস্ট্রোক, জলশূন্যতা, ক্লান্তি, চর্ম রোগের মত নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছে। আর পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই দেশের শিক্ষাদপ্তর গুলির পক্ষ থেকে আগেভাগেই গরমের ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই তীব্র তাপপ্রবাহ এত সহজে থামবে না। তাই নতুন করে গরমের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দপ্তর।
শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ বছর অতিমাত্রায় তাপ প্রবাহের কারণে দেশের প্রায় সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের গরমের ছুটি ১৬ জুলাই, ২০২৫ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই নির্দেশিকা গোটা দেশের স্কুলগুলির জন্যই কার্যকর হবে।
রাজ্যভিত্তিক ছুটির সময়সূচীতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ছুটি শুরু হবে আগামী ২ জুন ২০২৫ থেকে এবং স্কুল খুলবে ১৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে। দিল্লি, তামিলনাড়ু, বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে ছুটি শুরু হবে ১ জুন, ২০২৫ এবং স্কুল খুলবে ১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে। মহারাষ্ট্র, কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলিতে ছুটি শুরু হবে আগামী ৩০ মে, ২০২৫ এবং স্কুল খুলবে ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে। রাজস্থানে ছুটি শুরু হবে ৩১ মে, ২০২৫ এবং স্কুল খুলবে ১৫ জুলাই, ২০২৫ তারিখে।
হিসাব দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, এবছর গরমের ছুটি প্রায় ৪৬ দিন মতো রাখা হচ্ছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। সাধারণভাবে এই ছুটি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় ও জুন মাসের শেষ নাগাদ শেষ হয়। তবে এবার তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতি যেন কিছুটা বদলে গিয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছে, প্রতিবছর গরমের তাপমাত্রা হু হু করে বাড়ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাই এই ধরনের চরম আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত যে বিরাট ভূমিকা রাখবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সব মিলিয়ে, এ বছর তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্কুলগুলিতে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন পড়ুয়ারা, যার মূল উদ্দেশ্য তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে নিশ্চিত করা।