‘দুঃখে ছিলাম ১৩ বছর’, তৃণমূল ছেড়ে নিশীথ ও শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী মমতা-ভাই বাবুন!

রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। এবার রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বেইমানি’ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির ভাই স্বপন ব্যানার্জি, যিনি ময়দান জগতে ‘বাবুন ব্যানার্জি’ নামেই পরিচিত। তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অরূপ-সুজিতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ:
আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবুন ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, গত ১৩ বছর ধরে তাঁকে ময়দান ও রাজনীতির আঙিনা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২০১৩ সাল থেকেই আমি চরম দুঃখে ছিলাম। আমার থেকে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আমার ক্লাব দখল করা হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস আমার সাথে বেইমানি করেছেন। সুজিত বসু হকি বেঙ্গলে আমাকে কথা দিয়েও কথা রাখেননি।”
পরিবারের টান ও দূরত্ব:
এতদিন কেন চুপ ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এতদিন পারিবারিক সম্মান ও সম্পর্কের খাতিরে মুখ খোলেননি। বাবুন ব্যানার্জি জানান, গত আড়াই বছর ধরে দিদির বাড়িতে তাঁর যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেবল ভাইফোঁটা ও রাখিবন্ধনের মতো বিশেষ দিনে আমন্ত্রণ পেলেই তিনি যেতেন। এই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকেই তিনি এবার মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
নিশীথ ও শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা:
মমতা ব্যানার্জির ভাই হয়েও, রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে বেরিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কাজ করতে চাই। নিশীথ খুবই ডায়নামিক এবং কাজ করার ক্ষমতা রাখেন। আমি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কাজ করতে রাজি। শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক বরাবরই ভালো।”
ময়দানের মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ:
বাবুন ব্যানার্জি নিজেকে একজন ‘মাঠের লোক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, অঞ্জন মিত্র এবং টুটু বসুর হাত ধরেই তিনি ময়দানে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই জায়গা ধরে রাখার জন্য তাঁকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ঠিক পরেই মমতা ব্যানার্জির ভাইয়ের এই ধরণের অবস্থান স্পষ্টতই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল। নিশীথ প্রামাণিক বা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এই প্রস্তাবকে কীভাবে গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার।