ত্বিশা শর্মা মৃত্যু রহস্য! ৭২ ঘণ্টায় ৭২ প্রশ্ন, জবানবন্দিতে অসঙ্গতি মেলায় জেলহাজতে শাশুড়ি-স্বামী!

মধ্যপ্রদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মার মৃত্যু মামলায় বড়সড় মোড়। সিবিআই-এর ৫ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে, প্রধান অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি শোভনা ভালাওয়ের বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

জবানবন্দিতে অসঙ্গতি, সিবিআই-এর জালে অভিযুক্তরা
তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই গত ৭২ ঘণ্টায় অভিযুক্তদের মোট ৭২টি প্রশ্ন করে। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিটি পদক্ষেপে অভিযুক্তদের বয়ানে প্রচুর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গলার বেল্ট খুলে ফেলার দাবি এবং ময়নাতদন্তে ত্বিশার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সমর্থ ও গিরিবালা সিং।

ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও সিবিআই-এর কড়া পদক্ষেপ
সোমবার ভোপালের বাঘ মুঘালিয়া এক্সটেনশনে অভিনেত্রীর বাসভবনে গিয়ে ত্বিশার উচ্চতা ও ওজনের ডামি ব্যবহার করে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে সিবিআই। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই-এর কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করলেও, তাদের উত্তরে ছিল ধোঁয়াশা।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় উঠে আসা কিছু মূল প্রশ্ন যা অভিযুক্তদের অস্বস্তিতে ফেলেছে:

কেন পালানোর চেষ্টা: ঘটনার পরপরই স্বামী সমর্থ কেন এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন?

হাসপাতাল বিতর্ক: ঘটনার পর কাছের হাসপাতালগুলো এড়িয়ে কেন সরাসরি এইমসে নিয়ে যাওয়া হলো?

আঘাতের কারণ: আত্মহত্যার পূর্বে ত্বিশার শরীরে আঘাতের চিহ্নগুলো কীভাবে এল?

অভিযুক্তদের দাবি বনাম বাস্তব
জিজ্ঞাসাবাদে শাশুড়ি গিরিবালা দাবি করেন, তিনি পুত্রবধূর আন্তঃবর্ণ বিয়ে মেনে নিয়েছিলেন এবং তাকে আর্থিকভাবেও সাহায্য করেছিলেন। তার দাবি, ত্বিশা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অন্যদিকে, স্বামী সমর্থের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। তার দাবি, শাশুড়ির সঙ্গে মিলে তিনি ত্বিশাকে বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন।

তবে অভিযুক্তদের এই সাফাই ধোপে টেকেনি। আপাতত আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত জেলহাজতেই কাটবে তাদের রাত। ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিবিআই এখন তাদের চূড়ান্ত চার্জশিট প্রস্তুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রে।