পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের ছবি পোস্ট করে ভারতীয় সেনা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য, গ্রেফতার যুবক

সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনা ও যুদ্ধবিমানের ছবি পোস্ট করে তার নীচে ভারতীয় সেনা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তার সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ভারত বিরোধী এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক উস্কানিমূলক পোস্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে এবং আজ তাকে আদালতে পেশ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়ের থানার ফকিরডাঙ্গা এলাকায়। ধৃত যুবকের নাম রাহাত মল্লিক। সে ফকিরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন গ্রোসারি ব্যবসায়ী।
বর্তমানে ভারত-পাক সীমান্ত পরিস্থিতি মাঝে মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই সুযোগ নিয়ে যাতে দেশের অভ্যন্তরে কোনও ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ বা সম্প্রদায়গত উস্কানি ছড়াতে না পারে, তার জন্য রাজ্য পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাঁকুড়া জেলা পুলিশের রাইপুর, বড়জোড়া এবং বিষ্ণুপুর থানার পর এবার পাত্রসায়ের থানার পুলিশের নজরদারিতে উঠে আসে রাহাত মল্লিকের নাম। দেখা যায়, সে লাগাতারভাবে সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে ভারত বিরোধী পোস্ট করে চলেছে।
পুলিশ বুঝতে পারে যে রাহাত মল্লিকের এই ধরনের পোস্ট এলাকায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়াতে পারে, যার ফলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আঁচ করে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রাহাত মল্লিককে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়।
ধৃত রাহাত মল্লিকের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে পুলিশ বিভিন্ন সময় তার করা আপত্তিকর পোস্টগুলোর প্রমাণ পেয়েছে। দেখা গেছে, সে কেবল পাকিস্তান সেনা বা যুদ্ধবিমানের ছবি পোস্ট করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার সঙ্গে ভারতীয় সেনাকে নিয়েও বিশেষ আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছে। এছাড়াও, তার অ্যাকাউন্টে জাতি ও সম্প্রদায়গত উস্কানিমূলক একাধিক পোস্ট রয়েছে।
পুলিশ অবিলম্বে ওই আপত্তিকর পোস্টগুলিকে সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, ওই যুবকের এই ধরনের কার্যকলাপের পিছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের মদদ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃত রাহাত মল্লিককে আজ বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। দেশের সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচার রুখতে পুলিশের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।