ভুয়ো পরিচয়ে ভারত ঢুকে নেপালে পালানোর চেষ্টা, গ্রেফতার হলেন ৬ জন

ভারত-নেপাল সীমান্তের সুরক্ষায় মোতায়েন থাকা সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর তৎপরতায় শিলিগুড়ির কাছে পাণিটাঙ্কি সীমান্ত এলাকা থেকে শনিবার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক অভিযানে মায়ানমারের ছয়জন সন্দেহভাজন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়ো ভারতীয় নথিপত্র ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
SSB সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া এই শিক্ষার্থীরা ২০২২-২৩ সালের মধ্যে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরাম দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিল। আরও বিস্ময়কর হলো, তাদের প্রত্যেকের কাছেই ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছিল আধার কার্ড (যার অধিকাংশই দিল্লিতে তৈরি), ভোটার আইডি এবং একজনের কাছে জাল প্যান কার্ডও ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা নাগাল্যান্ডের ওখা জেলার একটি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক কলেজে (‘ভিটার থিওলজিক্যাল কলেজ’) ভর্তি হয়ে ২০২৩ সাল থেকে সেখানেই বসবাস করছিল। সম্প্রতি ছুটির সময়ে তারা ভারত ও নেপালের অন্য কিছু ছাত্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি ঘুরতে এসেছিল।
শনিবার প্রথম ঘটনাটি ঘটে যখন এই ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন, আরও তিন জন ভারতীয় ছাত্রের সঙ্গে নেপালের বিরতামোড়ের ‘হ্যাপি ল্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক’-এ যেতে উদ্যত হয়েছিল। সে সময় পাণিটাঙ্কি সীমান্ত পোস্টে কর্তব্যরত SSB-র বিআইটি টিম তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে আটক করে। যেহেতু তিন ভারতীয় নাগরিক নাগাল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুটি আলাদা দল থেকে আরও তিনজন মায়ানমারের শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে SSB জওয়ানরা।
আটক হওয়া সকল শিক্ষার্থীকে এরপর খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সমগ্র ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। তাদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, ভুয়ো নথি সংগ্রহ এবং তাদের গতিবিধির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলার পর গোটা দেশে এমনিতেই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ভারত পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার সকল পাক নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশও জারি করেছে। এমন আবহের মধ্যে ভারত-নেপাল সীমান্তে মায়ানমারের নাগরিকদের গ্রেফতার হওয়ায় সীমান্তরক্ষীরা আরও বেশি সতর্ক ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে।