“মুসলিম এলাকায় মন্দির বাঁচাতে তৈরী হবে…?”-হিন্দু রাষ্ট্র নিয়ে ৭ টি বড় ঘোষণা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের ইন্দিরা গান্ধী প্রতিষ্টানে রবিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর নেতৃত্বে এক ধর্ম সংসদ অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে অযোধ্যা, কাশী, মথুরা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু সাধু-সন্ত একত্রিত হন। ধর্ম সংসদে মোট সাতটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যা বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ধর্ম সংসদে পাশ হওয়া প্রধান সাতটি প্রস্তাব নিম্নরূপ:
১. হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: দেশের নিরাপত্তা ও সনাতন ধর্মকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এটিকে অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন ধর্ম সংসদের নেতৃত্ববৃন্দ।
২. সনাতন হেল্পলাইন: সারা দেশের হিন্দুদের উপর যে কোনো ধরনের হামলা বা হেনস্থার খবর দ্রুত সংগঠনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি ‘সনাতন হেল্পলাইন’ নম্বর চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়।
৩. সনাতন কবচ: মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে হিন্দু ও মন্দিরগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশ্ব হিন্দু রক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে ওইসব অঞ্চলে নিজস্ব দফতর বা ‘সনাতন কবচ’ খোলা হবে।
৪. লভ জিহাদের বিরুদ্ধে প্রচার: হিন্দু মেয়েদের মুসলিম ছেলেদের বিবাহ করা থেকে বিরত রাখতে ‘লভ জিহাদের’ বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জোরদার প্রচার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৫. সনাতন সেনা গঠন (ভূমি জিহাদ প্রতিরোধ): বেআইনিভাবে হিন্দুদের জমি দখল বা হিন্দু এলাকা দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ‘সনাতন সেনা’ নামে একটি বিশেষ সংগঠন তৈরি করা হবে।
৬. সনাতন যাত্রা: জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত একটি ‘সনাতন যাত্রা’ আয়োজনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে এই যাত্রা সংগঠিত হবে।
৭. সনাতন গৌরব সম্মান: সনাতন ধর্ম রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ‘সনাতন গৌরব সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করা হবে।
এই ধর্ম সংসদে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের উপস্থিতি রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। হনুমানগড়ির মহন্ত রাজু দাস বলেন, পেহেলগামের মতো ঘটনা রুখতে হলে সারা দেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মকে রক্ষা করলেই ধর্ম মানুষকে রক্ষা করবে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উঠে আসে ধর্ম সংসদে। মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের তীব্র নিন্দা করা হয় এবং এটিকে পূর্ব পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে দ্রুত ‘সনাতন হেল্পলাইন’ খোলার কথাও জানানো হয়।