কাঁধে চাপানো ‘মৃত্যু’, পাকিস্তানের ড্রোন রুখতে সীমান্তে মোতায়েন ভারতের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হলো এক নতুন মারণাস্ত্র। এসে গেছে রুশ নির্মিত অত্যাধুনিক ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS), যা ইগলা-এস মিসাইল নামে পরিচিত। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া অর্ডারের পর ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এই মিসাইল সিস্টেমগুলি প্রায় এক সপ্তাহ আগেই ভারতীয় সেনার হাতে পৌঁছেছে।

এই ইগলা-এস মিসাইল সিস্টেমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি কাঁধে বহনযোগ্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা হেলিকপ্টার যদি ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে আসে, তবে সেনার জওয়ানরা এই সিস্টেম কাঁধ থেকে ফায়ার করে সেগুলিকে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারবে। এটি একটি শোল্ডার লঞ্চড সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং বিশ্বজুড়ে এর ব্যাপক কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

এই মিসাইলের ইনফ্রারেড টার্গেট সিকার একবার আকাশে লক্ষ্যবস্তুকে ‘লক’ করতে পারলে, সেটি লক্ষ্যবস্তুর ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপকে অনুসরণ করে ধেয়ে যায়। ৮ কিলোমিটার দূরত্ব এবং প্রায় ৪ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এই মিসাইল। ১৯৯০-এর দশক থেকে বিভিন্ন যুদ্ধে রুশ নির্মিত ইগলা সিরিজের মিসাইল ব্যবহার হয়ে আসছে এবং ইগলা-এস হলো সেই সিরিজের সবথেকে আধুনিক সংস্করণ। উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুর তাপ অনুসরণ করে আঘাত হানার কারণে এর ব্যর্থতার হার প্রায় শূন্য।

এই অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেমটি ভারতীয় সেনা তাদের ওয়েস্টার্ন সেক্টরে, অর্থাৎ পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মার্ক ওয়ান ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন ও ইন্টারডিকশন সিস্টেমও ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি জম্মুর ১৬ কর্পস এলাকায় এই দেশীয় ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করেই একটি পাক ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইগলা-এস মিসাইলের কার্যকারিতা এতটাই বেশি যে ভারতীয় বায়ুসেনাও একই ধরনের ইনফ্রারেড নির্ভর মিসাইলের জন্য দরপত্র জারি করেছে। পাশাপাশি, ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও ৪৮টি লঞ্চার এবং ৯০টি ইনফ্রারেড নির্ভর মিসাইলের নতুন অর্ডার দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাশিয়ার তৈরি লেজার বিম নির্ভর ভি-এসএইচওআরএডিএস সিস্টেমের দিকেও নজর রাখছে, যা দ্রুতই ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ড্রোন কার্যকলাপ রুখতে এই নতুন মিসাইল সিস্টেমগুলি ভারতীয় সেনাকে আরও শক্তিশালী করবে।