পাকিস্তানের ‘ভারতীয় জঙ্গি’ দাবি হাস্যকর, তাদের ফরেন্সিক প্রমাণ ভিত্তিহীন – ফাঁস করলেন বিশেষজ্ঞরা

পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই কোণঠাসা পাকিস্তান এক হাস্যকর দাবি নিয়ে সামনে এসেছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (ISPR)-এর ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পেছনে নাকি ভারতের হাত রয়েছে। এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি ‘অকাট্য ফরেন্সিক প্রমাণ’ উপস্থাপন করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সেই তথাকথিত প্রমাণ খতিয়ে দেখে জানিয়েছেন যে পাকিস্তানের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিকৃত প্রমাণ দিয়ে তারা ভারতকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের সেনা এবং জনসংযোগ শাখা হিসেবে পরিচিত আইএসপিআর-এর ডিজি আহমেদ শরিফ চৌধুরী গত ২৯ এপ্রিল একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন, যা ছিল পহেলগাঁও হামলার ঠিক এক সপ্তাহ পরের ঘটনা। যখন গোটা বিশ্ব হামলার নিন্দা করে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় তিনি দাবি করেন যে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পেছনে ভারতের জড়িত থাকার অকাট্য ফরেন্সিক প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে এবং তিনি সেই প্রমাণগুলো তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানের দাবিকে কীভাবে খণ্ডন করছেন?

ডিজিটাল ফরেন্সিকের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ডেটা সংরক্ষণের জন্য সাধারণত নন-অ্যাকটিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আইএসপিআর তাদের ফরেন্সিক তদন্ত চালিয়েছে একটি সক্রিয়, ডুয়াল সিম যুক্ত ফোনের উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি বিষয়ই তাদের সম্পূর্ণ প্রমাণকে বাতিল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

পাকিস্তানের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রমাণ হলো হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ডিং। তাদের দাবি, গত ২৫ এপ্রিল মজিদ নামে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ডিং উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন হলো, হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ডিং করার জন্য বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়, যা ওই জঙ্গির জানার সম্ভাবনা কম। আর কেনই বা সে নিজের অপরাধের প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড করে রাখবে? তাহলে কি আইএসপিআর-এর জন্য সে এই কল রেকর্ড করেছিল? একজন ‘দেশপ্রেমী পাকিস্তানি জঙ্গি’!

যদি ওই জঙ্গি বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল না করে থাকে, তবে প্রশ্ন ওঠে আইএসপিআর বা আইএসআই কি ওই জঙ্গির ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়েছিল? যদি সেটাই হয়, তাহলে আইএসআই-এর কাছে তাদের সম্ভাব্য সব জঙ্গি হামলা সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য থাকার কথা। এর মানে কি তারা জেনে বুঝেও হামলাগুলো হতে দিয়েছে?

এছাড়া, ওই জঙ্গির চ্যাটের স্ক্রিনশটও সামনে আনা হয়েছে। স্ক্রিনশটগুলোর সময়ের দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে মেসেজ পাঠানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, মজিদকে ২৫ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়েছে। তাহলে অতীতে ফিরে গিয়ে কীভাবে মেসেজের স্ক্রিনশট নেওয়া হলো?

আইএসপিআর-এর ডিজি সাংবাদিক বৈঠকে আরও জানান যে, ওই জঙ্গির বাড়ি থেকে একটি ভারতীয় ড্রোন পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু গুগল ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে যে, ওই ড্রোনটি আসলে চিনের ডিজেআই ড্রোন। তাহলে কি পাকিস্তানে চিনের মদতে হামলা হয়েছে?

সাংবাদিক বৈঠকের উপস্থিত সাংবাদিকরাও আইএসপিআর ডিজির বক্তব্যকে মেনে নিতে পারেননি, যা তাদের মুখের অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট ছিল। মজিদ পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘ভারতীয় জঙ্গি’ হিসেবে চালানোর চেষ্টা চরম হাস্যকর। বিশ্ব মঞ্চে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়া পাকিস্তানের এই হাস্যকর দাবি তাদের মুখোশকে আরও একবার খুলে দিল।