দিঘায় মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের তুলোধোনা করলেন দিলীপ ঘোষ

বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার সী বিচে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সস্ত্রীক খোশমেজাজে মর্নিং ওয়ার্ক সারলেও, বঙ্গ বিজেপির একাংশ নেতাকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলেছে।

দলের একাংশ নেতার প্রতি তীব্র আক্রমণ:

দিঘায় দাঁড়িয়েই দিলীপ ঘোষ বলেন, “যারা মমতা ব্যানার্জির আঁচলে বড় হয়েছে, তারা নিজেদের ধান্দায় বিজেপিতে এসেছে। যারা এভাবে বিজেপিতে এসে করে খাচ্ছে, দিলীপ ঘোষ তাঁদের থেকে শিখবে না। দিলীপ ঘোষ জানে কীভাবে লড়াই করতে হয়।” তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্টতই তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

দলের বর্তমান অবস্থা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন:

২০১৯ সালের পর বাংলায় বিজেপিকে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন দাবি করে দিলীপ ঘোষ দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “২০১৯ সালের পর নিজের হাতে যেভাবে বাগান সাজিয়ে দিয়েছিলাম আজ তা নিঃস্ব হতে বসেছে, এর দায় কে নেবে?” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দলের ২৫৭ জন কর্মীর রক্তের বিনিময়ে তিনি ৭৭ জন বিধায়ক ও ১৯ জন সংসদ তৈরি করেছিলেন। আজকের পরিস্থিতি কোথায় এসে ঠেকেছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দল কোথায় জিতছে এবং পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা কেন দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সেই দায় কার, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপট ও আত্মপক্ষ সমর্থন:

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে দলের অন্দরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, সৌমিত্র খাঁ সহ রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির একাধিক নেতা তাঁর এই পদক্ষেপের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন। মনে করা হচ্ছে, এদিন এই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়েই দিলীপ ঘোষ নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমার রক্তের ঠিক আছে, কারণ আমি এ দল, ও দল করে বিজেপিতে আসিনি!” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য করে তিনি নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করেছেন, যিনি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছেন। দিলীপ এরপর বিজেপির রাজনৈতিক সৌজন্যের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করা বা প্রধানমন্ত্রী মোদীর নওয়াজ শরিফের নাতনির বিয়েতে কোনো প্রোটোকল না মেনেই পাকিস্তান গিয়ে আশীর্বাদ করার ঘটনার উল্লেখ করেন। এটিকে বিজেপির সংস্কৃতি ও সৌজন্য বলে ব্যাখ্যা করে দিলীপ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা ২০২১ সালে এসেছেন, তাঁরা এই বিজেপিকে নিতে পারবেন না।”

সব মিলিয়ে, দিঘার সৈকতে প্রাতঃভ্রমণ করতে এসে দিলীপ ঘোষ যে বোমা ফাটালেন, তা আগামী দিনে রাজ্য বিজেপির অন্দরের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।