দিঘায় খুলল জগন্নাথ মন্দির, এবার হাওড়া থেকে দ্রুত পৌঁছাতে পারে বন্দে মেট্রো!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুণ্য অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরের দরজা। বহু বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর মন্দিরের দ্বার উন্মোচনে ভক্ত ও পর্যটকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেছে, আর এই ভিড় সামাল দিতে এবং দিঘার পর্যটনকে আরওAccessible করে তুলতে এবার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে চলেছে ভারতীয় রেল।
বন্দে মেট্রোর (নমো ভারত র্যাপিড রেল) প্রস্তাব:
বর্তমানে কলকাতা এবং দিঘার মধ্যে গরিব রথ সহ বেশ কিছু ট্রেন চলাচল করে। তবে পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার হাওড়া-দিঘা রুটে নমো ভারত র্যাপিড রেল বা বন্দে মেট্রো চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে হিন্দি পোর্টাল ‘nativeplanet’-এর প্রকাশিত এক খবরে, যেখানে ETNow NEWS মিডিয়ার রিপোর্টের উল্লেখ রয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ট্রেন চালু হলে হাওড়া থেকে দিঘা পৌঁছনোর সময় অনেকটাই কমে আসবে।
বন্দে মেট্রো কী এবং এর সম্ভাব্য রুট:
আগে ‘বন্দে মেট্রো’ নামে পরিচিত ‘নমো ভারত র্যাপিড রেল’ হলো স্বল্প দূরত্বের শহরগুলির মধ্যে দ্রুত ও বিশ্বমানের রেল পরিষেবা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা ট্রেন। এটি অনেকটা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মিনি সংস্করণের মতো। যদিও nativeplanet-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ভারতে আহমেদাবাদ থেকে ভুজ এবং জয়নগর থেকে পাটনার মধ্যে দুটি নমো ভারত র্যাপিড রেল পরিষেবা চলছে (যা আনুষ্ঠানিক তথ্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন), তবে ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই মিনি ট্রেনগুলি আরও ছোট ছোট কিছু শহরের মধ্যে চালানো হবে এবং সেই সম্ভাব্য রুটগুলির তালিকায় হাওড়া-দিঘা রুটটি রয়েছে।
যাত্রার সময় ও স্টপেজ:
ETNow NEWS মিডিয়ার রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে nativeplanet দাবি করেছে, হাওড়া থেকে দিঘার দূরত্ব প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার, যা ট্রেনে অতিক্রম করতে সাধারণত ৩ ঘণ্টার কাছাকাছি সময় লাগে। হাওড়া-দিঘা রুটে বন্দে মেট্রো চালু হলে এটিই হবে দ্রুততম ট্রেন এবং মনে করা হচ্ছে এটি তিন ঘণ্টারও কম সময়ে যাত্রীদের দিঘা পৌঁছে দেবে। ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই রুটে বন্দে মেট্রো সাঁতরাগাছি, উলুবেড়িয়া, মেচদা, তমলুক এবং কাঁথির মতো স্টেশনগুলিতে স্টপেজ দিতে পারে।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা:
তবে, এটি কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর। পূর্ব রেলের তরফে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবুও, দিঘার নতুন মন্দির এবং সম্ভাব্য বন্দে মেট্রো পরিষেবা চালু হলে হাওড়া ও দিঘার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এবং দিঘার পর্যটন শিল্প আরও উন্নত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এখন শুধু ভারতীয় রেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।