বালুরঘাট স্টেশনে করা তল্লাশি, বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ কারবারি

কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর দেশজুড়ে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই হামলার প্রেক্ষিতে সতর্কতা বৃদ্ধি করে বিভিন্ন রেলস্টেশন এবং ট্রেনে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে রেল পুলিশ (GRP) ও কেন্দ্রীয় রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF)। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন স্টেশনগুলিতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। এমনই তৎপরতা দেখা গেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট স্টেশনে।
ট্রেনে ট্রেনে চলছে নিবিড় তল্লাশি:
রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আসা বিশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ট্রেনে ট্রেনে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শুধু যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, তাদের জামাকাপড়ের ব্যাগ সহ সমস্ত মালপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গোটা ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন রেলকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বালুরঘাট স্টেশনের উপর দিয়ে যাওয়া ট্রেনে রেলকর্মীদের এই তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। বালুরঘাট এবং দিল্লির মধ্যে চলাচলকারী ভাটিন্ডা এক্সপ্রেস ট্রেনে নিরাপত্তা বিশেষভাব জোরদার করা হয়েছে।
বালুরঘাটে বাড়তি সতর্কতার নেপথ্যে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ:
বুনিয়াদপুর আরপিএফের ইন্সপেক্টর কৃষ্ণেন্দু দাস জানিয়েছেন, বালুরঘাট স্টেশনে বাড়তি সতর্কতার প্রধান কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। বালুরঘাটের তিনদিকেই বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত দিয়ে মাঝেমধ্যেই অনুপ্রবেশের খবর সামনে আসে। সম্প্রতি বালুরঘাট স্টেশনে এক বাংলাদেশি নাগরিক ধরাও পড়েছিল। এই সমস্ত কারণেই বালুরঘাট স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে পহেলগাঁওয়ের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এখানে না ঘটে।
যাত্রী সুরক্ষা ও সচেতনতা শিবির:
যাত্রী সুরক্ষা বৃদ্ধিই এখন রেলের মূল লক্ষ্য। আরপিএফ ইন্সপেক্টর কৃষ্ণেন্দু দাস বলেন, “পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর যাত্রী সুরক্ষায় আমরা আরও বেশি সতর্ক রয়েছি। যে কোনও উপায়ে যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ এসেছে। এই বিষয়ে আরপিএফ এবং জিআরপি যৌথভাবে কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ট্রেনে মাদকদ্রব্য বহন বন্ধ করতেও তাঁরা বদ্ধপরিকর। যাত্রী ও রেলকর্মীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে বালুরঘাট রেল স্টেশনে বিভিন্ন স্তরের মানুষদের নিয়ে একটি বিশেষ সচেতনতা শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। এই শিবিরে বালুরঘাট জিআরপি থানার ওসি রতন সরকার সহ রেল উন্নয়ন কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
পহেলগাঁও হামলার পর দেশজুড়ে রেল নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বালুরঘাটের মতো সীমান্ত সংলগ্ন স্টেশনগুলিতে এই বাড়তি সতর্কতা নিঃসন্দেহে যাত্রী সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।