ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে খলিস্তানিদের চরম উস্কানি: পাক সেনাকে সাহায্যের নির্দেশ SFJ-এর, পাঞ্জাব সীমান্ত থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো রকম সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সরাসরি সাহায্য করার জন্য নিজেদের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে খলিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (SFJ)। এই চরম উস্কানিমূলক বার্তার পাশাপাশি, পাঞ্জাব সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এসএফজে-এর উস্কানিমূলক বার্তা:

এসএফজে-এর শীর্ষ নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নু একটি ভিডিও বার্তা বা বিবৃতিতে বলেছেন, যদি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাধে, তাহলে খলিস্তানি জঙ্গিরা সক্রিয়ভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করবে। তিনি আরও উস্কানি দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী ভারতীয় পাঞ্জাবিরা যেন পাকিস্তানি সেনাদের জন্য ‘লঙ্গর’ (শিখ ধর্মে ক্ষুধার্তদের বিনামূল্যে খাবার ও জল বিতরণের পবিত্র প্রথা) খোলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত সমস্ত শিখ জওয়ান ও অফিসারদের প্রতি তাঁর বার্তা, যুদ্ধ লাগলে তাঁরা যেন ভারতের হয়ে লড়াই না করেন। পান্নু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারত যদি পাকিস্তান আক্রমণ করে, তবে তা হবে ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অন্তিম যুদ্ধ।

পাঞ্জাব সীমান্ত থেকে অস্ত্র উদ্ধার:

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এমনিতেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। এরই মধ্যে পাঞ্জাবের অমৃতসর জেলার ভারোপাল গ্রামের কাছে একটি বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক বানচাল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাঞ্জাব পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) যৌথ অভিযানে বুধবার রাতে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বিএসএফ-এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই তল্লাশি অভিযানে দুটি হাত গ্রেনেড, তিনটি পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এসএফজে-এর সাম্প্রতিক উস্কানির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসএফজে-এর এই ধরনের চরমপন্থী বার্তা এবং সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধার ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে, এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি এখনও সক্রিয় এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কাজে লাগিয়ে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।