অপরিণত বয়সে শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ের করেও রেহাই নেই যুবকের, ১০ বছরের কারাদণ্ড মাদ্রাজ হাইকোর্ট

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই যৌন সম্পর্কের ঘটনায় শেষ রক্ষা হলো না এক যুবকের। এমনকি ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরে বিয়ে করে সংসার করার পরও পকসো আইন অনুযায়ী তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বুধবার এই রায় দিয়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালীন সংঘটিত এই ধরনের অপরাধ বিয়ের মাধ্যমে মোচন করা যায় না।

প্রেম বয়স মানে না, কিন্তু ১৮ বছরের আগে শারীরিক সম্পর্ক আইনত অপরাধ, যা পকসো (Protection of Children from Sexual Offences) আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়। এই মামলাই সেই নীতির কঠোর প্রয়োগের উদাহরণ।

ঠিক কী ঘটেছিল? কর্ণাটকের বাসিন্দা ওই যুবক ও কিশোরী প্রতিবেশী ছিলেন এবং একে অপরকে ভালোবাসতেন। তাদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে কিশোরীর পরিবার আপত্তি জানায় এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দেয়। পরিবারের জোর জবরদস্তি মেনে নিতে না পেরে দুজনে বাড়ি থেকে পালিয়ে মাইসুরুতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

এরপর কিশোরীর পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি করলে ভয়ে তারা বাড়ি ফিরে আসে। পুলিশ কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় সে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মাদ্রাজ হাইকোর্ট রায়দানের সময় জানায়, “যখন এই ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন কিশোরীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে এটি পকসো আইনের আওতায় পড়ছে।”

আদালতে যুবকের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, তারা দুজন পরবর্তীকালে বিয়ে করেছেন এবং এখন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করছেন। কিন্তু আদালত এই যুক্তি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলে, “বিয়ে কখনও কোনো অপরাধ মুছে দিতে পারে না। এই ধরনের যুক্তি মেনে নিলে পকসো আইনের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হবে।”

আদালত তার পর্যবেক্ষণে আরও বলেছে যে, “এই ধরনের অপরাধ শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।” মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই রায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় পকসো আইনের কার্যকারিতা এবং এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের অনমনীয় মনোভাবকে তুলে ধরেছে।