স্ত্রীকে খুনের পর দুই সন্তানকে গৃহবন্দি স্বামী, ৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার

এক ভয়াবহ ঘটনায় জলপাইগুড়ির রায়পুর চা বাগানের পাহাড়িয়া লাইন এলাকায় স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করে নিজের দুই সন্তানকে ধারালো অস্ত্রের মুখে গৃহবন্দি করে রাখলেন এক ব্যক্তি। প্রায় তিন ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মিলিত প্রচেষ্টায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ঘরে ঢুকে অভিযুক্তকে বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয় এবং শিশু দুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তের নাম অজয় মুন্ডা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজয় মুন্ডা তার স্ত্রী কুসুম মুন্ডাকে (২৬) গলা কেটে হত্যা করেছেন। এই নির্মম ঘটনার পর তিনি তাদের দুই শিশু সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে নিজেকে আটকে রাখেন।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে অজয়কে আত্মসমর্পণ করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। পুলিশ এরপর বাড়ির একপাশে দেওয়াল কেটে ঢোকারও চেষ্টা করে, কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। স্থানীয়রা জানান, তারা অজয়কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করলে সে বারবার হুমকি দিচ্ছিল যে কেউ ঘরে ঢুকলে সে সন্তানদের খুন করে ফেলবে। প্রত্যক্ষদর্শী বাবলু দাস বলেন, “সকাল থেকে অজয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছিল। নিজের স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করার পর ঘরেই দুই সন্তানের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নিজেকে বন্দি করে রেখেছিল। আমাদেরও বারবার বলছিল, চলে না গেলে সন্তানদের খুন করে ফেলবে।” অবশেষে প্রায় তিন ঘন্টার চেষ্টায় পুলিশ এবং স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রয়াসে অজয়কে নিয়ন্ত্রণে এনে দুই সন্তানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ডিএসপি (সদর) পার্থ সিনহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত তার স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করেছে। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্তানদেরও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে অজয়ের ভাই বিজয়-এর স্ত্রী শীলার। তিনি গোঙানির শব্দ শুনে কিছু অঘটন ঘটেছে বলে সন্দেহ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। তাদের মাধ্যমেই পুলিশে খবর যায়।

অজয়ের মা সুমি মুন্ডা জানান, ঘটনার সময় তিনি সকালে পাতা তোলার কাজে বাইরে ছিলেন। সেখানেই ছেলের হাতে পুত্রবধূর খুনের খবর পান। বাড়িতে এসে তিনি স্ত্রীকে খুন করে দুই সন্তানকে ঘরে আটকে রাখার দৃশ্য দেখেন। এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না বলে জানান। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।