‘গৌরবের মুণ্ডু চাই’, ধনিয়াখালিতে সেনা কর্মির বাড়িতে হুমকি পোস্টার, ভয়ে বুক কাঁপছে পরিবারের

দেশের সুরক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা এক সেনাকর্মীর বাড়িতে এবার মিলল প্রাণনাশের হুমকি পোস্টার। শুধু হুমকি নয়, পোস্টারে সরাসরি লেখা হয়েছে ‘মুণ্ডু চাই’ এবং তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান। হুগলি জেলার ধনিয়াখালিতে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত পরিবারটি দ্রুত স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

হুগলির ধনিয়াখালির বাসিন্দা গৌরব মুখোপাধ্যায় বর্তমানে ভারতীয় সেনায় কর্মরত এবং তাঁর পোস্টিং রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। বছর দু’য়েক আগে তিনি ভারতীয় সেনার স্পেশ্যাল ফোর্স ইউনিটে যোগ দেন। উল্লেখ্য, উধমপুরে জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হওয়া জওয়ান ঝন্টু আলি শেখও একই স্পেশ্যাল ফোর্স ইউনিটের সদস্য ছিলেন।

গৌরব মুখোপাধ্যায়ের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে তাঁদের ধনিয়াখালির বাড়িতে দু’টি হাতে লেখা পোস্টার মেরে দেওয়া হয়। পোস্টারগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দেশবিরোধী বার্তা লেখা ছিল – ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ। গৌরবের মুণ্ডু চাই। ভারতকে বাঁচাতে পারবি না। বাংলাকে পাকিস্তান বানিয়ে ছাড়ব।‘

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। প্লাস্টিকে মোড়া একই রকম আরও একটি পোস্টার জানালা দিয়ে বাড়ির ভেতরে ফেলা হয়। এরপর থেকেই চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গৌরববাবুর পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার পর গৌরব মুখোপাধ্যায়ের বাবা ধনিয়াখালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি স্কুটারে চেপে মুখ ঢাকা অবস্থায় দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসেছিল এবং পোস্টার ফেলে দিয়ে দ্রুত চলে যায়। পরিবারের দাবি, পোস্টারগুলিতে হাতের লেখা অত্যন্ত কাঁচা, আঁকাবাঁকা এবং প্রচুর বানান ভুল রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিপক্ক হাতে লিখেছে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সোমবার বিকালেই হুগলির গ্রামীণ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ধনিয়াখালিতে গৌরব মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। তাঁরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করেন। একই দিনে, স্থানীয় বিধায়ক অসীমা পাত্রও সেনা কর্মীর বাড়িতে যান এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পুলিশ জানিয়েছে, কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের ভয়াবহ হুমকি পোস্টার দিয়েছে এবং এর পিছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

দেশের সুরক্ষায় নিজেদের জীবন বাজি রাখা একজন সেনা কর্মীর পরিবারকে এভাবে সরাসরি হুমকি এবং পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনার দ্রুত এবং কঠোর তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।