কেন্দ্র সরকারের মালিকানায় কোপ, ২৭০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করবে ইউকো ব্যাঙ্ক

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বাজার থেকে ২৭০০ কোটি টাকা তুলতে চায় ইউকো ব্যাঙ্ক। ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ২৭০ কোটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার ব্যাঙ্কের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকের (Q4 FY25) শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ঘোষণার সময় এই তথ্য জানান ব্যাঙ্কের এমডি ও সিইও অশ্বিনী কুমার।

ব্যাঙ্কের এমডি ও সিইও অশ্বিনী কুমার জানান, সেবির নিয়ম মেনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। চলতি অর্থবছরের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সেই নির্ধারিত সীমায় পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছে ইউকো ব্যাঙ্ক। তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) কিউআইপি (কোয়ালিফায়েড ইনস্টিটিউশনাল প্লেসমেন্ট) মারফত বাজার থেকে ২ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাঙ্কে সরকারি অংশীদারিত্ব আরও কমিয়ে আনতে ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ২৭০ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ২,৭০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল

সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে ইউকো ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৬৬৫.৭২ কোটি টাকা হয়েছে। তার আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) শেষ ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কটি ৫৩৭.৮৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল। ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্য উন্নত হওয়ার লক্ষণ হিসেবে গত তিন মাসে ব্যাঙ্কটির নিট অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ (Net NPA) এক বছর আগের ৩.৪৬ শতাংশ থেকে কমে ২.৬৯ শতাংশ হয়েছে। গত অর্থবছরের (FY24) জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কটির মোট ৮,১৩৬ কোটি টাকা আয় হয়েছিল।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও শাখা পুনর্গঠন

অশ্বিনী কুমার জানান, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ব্যাঙ্কের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিচালন পর্ষদ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ৪৩টি পরিষেবা চালু করা হয়েছে এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবহার ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহকদের উন্নত পরিষেবা দিতে দেশজুড়ে ২৫০টি ব্যাঙ্কের শাখা পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমএসএমই ক্ষেত্রকে সহায়তা

দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) ক্ষেত্রকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সারা দেশে ৫৫-টি এমএসএমই হাব খুলেছে ইউকো ব্যাঙ্ক। প্রয়োজনে আরও কেন্দ্র খোলা হবে বলে তিনি জানান। এমএসএমইগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিতে ১১-টি নতুন প্রকল্প শুরু করেছে ইউকো ব্যাঙ্ক। এর জন্য ফিনটেক এবং এনবিএফসি মিলিয়ে সাতটি কো-লেন্ডিং পার্টনারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে তারা।

ঋণ আদায়ে ভালো ফল

ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও ভালো ফল করেছে ইউকো ব্যাঙ্ক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বকেয়া ৪,৪২৯ কোটি টাকা আদায় করেছিল তারা, যা ঐ অর্থবছরের ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেকটাই বেশি। অশ্বিনী কুমার বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বকেয়া ঋণ বাবদ ২,২০০-২,৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।’

সামগ্রিকভাবে, ইউকো ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি মুনাফা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ এমএসএমই ক্ষেত্রকে সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। আগামী দিনে এই পরিকল্পনাগুলি কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।