নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করছে পাকিস্তান, এই নিয়ে পরপর তিন রাত ফায়ারিং, উপযুক্ত জবাব ভারতের

পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) বরাবর, যেখানে পাকিস্তান বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। সমগ্র পরিস্থিতি এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে রিপোর্টটি নতুন আঙ্গিকে নিচে লেখা হলো:
পহেলগাম হামলার পর LoC উত্তপ্ত: পরপর তিন রাত পাক সেনার গুলি, পাল্টা জবাব ভারতের; উপত্যকায় তীব্র হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর। গত তিন রাত ধরে Line of Control-এর ওপার থেকে repeated গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, পূর্ববর্তী দু’বারের মতোই এবারও তুতমারি গলি এবং রামপুর সেক্টরে ‘বিনা প্ররোচনায়’ গুলি চালানো হয়েছে পাক চৌকিগুলো থেকে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীও এর উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। আগের দু’বারের মতোই এবারও LoC-র এপার থেকে ভারতীয় জওয়ানরা পাক সেনার গুলির প্রত্যুত্তরে ফায়ারিং করেছে। তবে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একাধিক চৌকি থেকে গুলি চালানো হলেও ভারী মাত্রায় গুলিবর্ষণ হয়নি, এবং পাল্টা জবাবে ভারতের তরফেও খুব বেশি ফায়ারিং করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পহেলগামের ভয়াবহতা ও ভারতের পাল্টা পদক্ষেপ:
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামের কাছে বৈসারন উপত্যকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলা ছিল অত্যন্ত নৃশংস। জঙ্গিরা বেছে বেছে পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জেনে, বিশেষ করে হিন্দু পুরুষদের টার্গেট করে গুলি চালায়। বেশিরভাগকেই খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। কাশ্মীরের ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত এই জায়গায় হামলায় মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ২৫ জন ছিলেন পর্যটক এবং বাংলার তিন বাসিন্দা। পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান এক স্থানীয় যুবক, টাট্টু ঘোড়ার চালক সৈয়দ আদিল হুসেন।
এই হামলার পর জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা এখনও অধরা। উপত্যকা জুড়ে তাদের খোঁজে ভারতীয় সেনাবাহিনী জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যাঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গির বাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারী জঙ্গিদের ধরতে ঘন জঙ্গল এবং পাহাড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোনও।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর পদক্ষেপ ও পাক প্রতিক্রিয়া:
পহেলগাঁওয়ের এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে কার্যত সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হেঁটে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। এর মধ্যে অন্যতম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সিন্ধু জল-চুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানকে সিন্ধুর ‘এক ফোঁটাও জল’ দেবে না (source text interpretation)। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপের তালিকা রয়েছে। ভারতের এই কড়া পদক্ষেপগুলো ঘোষণার পরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও volatile করে তুলেছে।