OMG! চুরি করতে গিয়ে বধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ল অসমের যুবক!

আলিপুরদুয়ার শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজনগর, ভাটিখানা এলাকায় চুরির সময় এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় অভিযুক্ত চোর হাতে নাতে ধরা পড়ে। উত্তম-মধ্যম দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দুজন চোর মিলে এই চুরির পরিকল্পনা করেছিল। বৃহস্পতিবার রাত ২টা নাগাদ একজন জানালা খুলে ঘরে ঢুকে পড়ে, অন্যজন বাইরে দাঁড়িয়ে নজর রাখছিল। অভিযোগ, টাকা ও মোবাইল চুরির পর ঘরে থাকা এক গৃহবধূর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত।
অভিযোগ উঠেছে যে, টাকা ও মোবাইল চুরির পর ওই গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ বা শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে চোরটি। গৃহবধূ জানান, পাশেই ঘুমিয়ে থাকা ছোট শিশুর জন্য তার মুখ চেপে ধরেছিল চোর। সেই মুহূর্তে সাহসিকতা দেখিয়ে তিনি চোরের হাতে কামড় বসিয়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন।
গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং চোরকে তাড়া করেন। চোরটি পালিয়ে পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা তাকে খুঁজে বের করে হাতেনাতে পাকড়াও করেন, বেঁধে রেখে উত্তম-মধ্যম দেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং গৃহবধূর পক্ষ থেকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ধৃত অভিযুক্ত অসমের বাসিন্দা। আলিপুরদুয়ার শহরে স্থানীয় এক চোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সে বারংবার চুরির কাজে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, আলিপুরদুয়ার শহরে চুরির জন্য আগে রেইকি করানো হত। তারপর সুযোগ বুঝে অসম থেকে এই অভিযুক্ত এসে চুরি বা ‘অপারেশন’ চালাত।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে অভিযুক্তের সঙ্গে সম্প্রতি জংশন এলাকায় ঘটে যাওয়া একাধিক চুরির যোগসূত্রও মিলেছে। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া কিছু টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, “ঘরে শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীর রাতে মুখ চেপে ধরা হয়, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা হয়। টাকা ও মোবাইল চুরি করেও ক্ষান্ত হয়নি ওই ব্যক্তি।”