জঙ্গি হামলায় ভয়ে কাশ্মীর ছাড়ছেন পর্যটকরা, অমরনাথ যাত্রায় কতটা প্রভাব পড়বে?

ভূস্বর্গ কাশ্মীরের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে বিষাদ আর আতঙ্কে। পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল উপত্যকায় মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। এই ঘটনার পর থেকেই কাশ্মীর ভ্রমণে আসা বাকি পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক গ্রাস করেছে।
জঙ্গি হামলার পর জম্মুর কাটরা এলাকা এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। উপত্যকায় উপস্থিত বহু পর্যটক দ্রুত কাটরা ছেড়ে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে যাঁদের কাটরা বা কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল, তাঁরাও আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের হোটেল বুকিং বাতিল করছেন। এই প্রসঙ্গে হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাকেশ ওয়াজির জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁর এলাকায় হোটেলের ২০ থেকে ২৫টি বুকিং বাতিল করা হয়েছে।
এই জঙ্গি হামলার প্রভাব আসন্ন অমরনাথ যাত্রার উপরেও পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও অমরনাথ যাত্রা শুরু হতে এখনও প্রায় ২ মাস বাকি রয়েছে।
পর্যটকরা এভাবে আতঙ্কিত হয়ে কাশ্মীর ছেড়ে চলে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে উপত্যকার পর্যটন ব্যবসা। মার্চ ও এপ্রিল মাস কাশ্মীর ভ্রমণের অন্যতম সেরা সময়। প্রতি বছর এই সময়ে উপত্যকা পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত থাকে। আর ঠিক এই সময়েই পর্যটকদের উপর এমন ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকরা গভীরভাবে আতঙ্কিত।
কাশ্মীরগামী বহু পর্যটক প্রথমে জম্মুর কাটরায় বৈষ্ণো দেবীর দর্শন করে তারপর উপত্যকার দিকে রওনা দেন। কিন্তু পহেলগাঁওয়ের হামলার পর সেই কাটরা থেকেই পর্যটকরা দ্রুত ফিরে যাচ্ছেন।
অমরনাথ যাত্রার সময় বহু স্থানীয় মানুষ ঘোড়াওয়ালা (Pony wallah) হিসেবে কাজ করে রোজগার করেন। এই হামলার পর তাঁরাও তীব্র আতঙ্কে রয়েছেন। আগামী দিনে তাঁরা অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেবেন কিনা, তা নিয়েও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সব মিলিয়ে, পহেলগাঁওয়ের হামলা কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।