‘২৬-এ উইকেট ফেলব’, ব্রিগেড থেকে তৃণমূল-বিজেপিকে হুঁশিয়ারি সেলিমের

বামেদের ঐতিহ্যবাহী শক্তি কৃষক, খেতমজুর এবং শ্রমিকদের ডাক দেওয়া সমাবেশকে ঘিরে রবিবার জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল ধর্মতলার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। সিপিএমের চারটি গণ-সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এই লাল ঝান্ডা সমাবেশ থেকে মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে। একসময় এই শক্তি তাদের পাশ থেকে সরে যাওয়ায় সিপিএমকে তীব্র কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটে এদিনের সমাবেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

আজকের সমাবেশে খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু শাসকদল তৃণমূলের জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’-কে হাতিয়ার করে পাল্টা আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “ওরা বলছে খেলা হবে। আমরা বলছি, এবার খেলব আমরাও। ব্যাটও ধরব, বলও করব। উইকেট ফেলব, ছাব্বিশে।”

বন্যা টুডুর সেই আক্রমণাত্মক সুরেই সুর মিলিয়ে বক্তব্য রাখেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “আজ প্রকৃতিও সঙ্গ দিয়েছে। আজ থেকে লড়াই শুরু। যাঁরা আমাদের ঘর ছাড়া করেছেন, তাঁদের আমরা রাজ্য ছাড়া করে ছাড়ব। যাঁরা অশান্তি করবে তাদের ঠান্ডা করতে হবে।” বন্যার খেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বন্যা টুডু বলেছেন খেলতে হবে। কী উইকেট ফেলবেন তো? আমি আবার ফুটবল খেলা বেশি পছন্দ করি। কারণ, ফুটবলে নেমে খেলতে হয়। সবাইকে নেমে খেলতে হবে।” এরপর দুর্নীতি ইস্যুতে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দুর্নীতিবাজকে ১৪ তলা থেকে টেনে হিঁচড়ে নীচে নামাতে হবে।”

সেলিম তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “যাঁরা দূরবিন দিয়ে লাল ঝান্ডা দেখতে পাচ্ছিলেন না, তাঁদের বুকে কাঁপন ধরেছে। খেটে খাওয়া মানুষকে খুঁটে খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। আর ওরা লুঠে খাওয়ার জায়গা বড় করছে। নতুন কলকারখানা হচ্ছে না।” তিনি বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর নাকে ঝামা ঘষে দিয়েছে। পুলিশ সিবিআই এক লাইনে দাঁড়িয়ে আইনে নয় বেলাইনে কাজ করছে।” ব্রিগেডে লোকসমাগম নিয়ে সংশয় প্রকাশকারীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যাঁরা ভেবেছিল এপ্রিলে তপ্ত দুপুরে কীভাবে ব্রিগেড হবে। লোক হবে তো? তাঁরা দেখেননি। এর আগে রাস্তায় আক্রমণ হয়েছে। বাসে হামলা হয়েছে। এখন আর সেই অবস্থা নেই। দিন পাল্টাচ্ছে। কারও সাহস হবে না লাল ঝান্ডার গায়ে হাত দেবে।”

এদিনের সমাবেশ থেকে মুর্শিদাবাদের হিংসায় নিহত হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস ও ইজাজ আহমেদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ব্রিগেডে কর্মীদের কাছে অর্থ সংগ্রহ করেন সিপিআইএম নেতৃবৃন্দ। এসবের মাঝে মহম্মদ সেলিম বিজেপি-তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, “বিজেপি-তৃণমূল খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে ফাটল ধরাতে চাইছে। মোহন ভাগবত কয়েকদিন আগেই রাজ্যে এসেছিলেন। তাঁর নির্দেশেই তাঁর স্ক্রিপ্টেই ভাষণ দিচ্ছে বিজেপি ও তৃণমূল।”

সেলিম তাঁর বক্তৃতার শেষে লাল ঝান্ডাকে মজবুত করার ডাক দিয়ে বলেন, “আরএসএস-এর দুর্গা তিনি (মমতা)। কর্পোরেট ফান্ড দিয়েছে। জামাত, জমিয়ত, এসিইউসি সবাইকে একাট্টা করেছিল। লাল ঝান্ডা হটাতে চেয়েছিল। ২০১১ সালে লাল ঝান্ডা হটেছে। কিন্তু, দেশ বাঁচেনি। তাই দেশকে বাঁচাতে লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে। মানুষের দুর্দশা পাল্টানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। যাঁরা তৃণমূলের টাকা খাবে না। বিজেপিকে ভয় পাবে না, তাদেরকে নিয়ে লড়াই হবে। গরিবের লড়াই গরিবকেই লড়তে হবে।”

সব মিলিয়ে, বামেদের এদিনের ব্রিগেড সমাবেশ থেকে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নতুন করে লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে।