কলকাতার বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন? মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে এই বায়ুতে, জানালো সমীক্ষা

দিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণ নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন আমাদের রাজ্যের রাজধানী কলকাতার পরিস্থিতিও যে মোটেই ভালো নয়, তা উঠে এল সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। তথ্য বলছে, কলকাতার বাতাস এখন এতটাই দূষিত যে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর। অবিলম্বে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে, শহরের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ‘দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট’ (টেরি)-কে দিয়ে কলকাতার বায়ুর গুণমান নিয়ে একটি সমীক্ষা করিয়েছিল। সেই সমীক্ষার রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। সমীক্ষায় দেখা গেছে, কলকাতার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হল বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম (পিএম১০) এবং অতিসূক্ষ্ম (পিএম২.৫) ধূলিকণার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এই ক্ষতিকর ধূলিকণার উৎসও একাধিক।

রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন নির্মাণস্থলের ধুলো, আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ডে লাগা আগুনের ধোঁয়া থেকে বিপুল পরিমাণে সূক্ষ্ম ও অতিসূক্ষ্ম কণা কলকাতার বাতাসে মিশছে। এই দূষণের মাত্রা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে যথেষ্ট বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে।

টেরি সংস্থাটি ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ সালের শীতকালে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই সমীক্ষা চালায়। এছাড়াও, ২০২৩ সালের গ্রীষ্মকালেও একই ধরনের সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। শহরের মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষজ্ঞরা বায়ুর গুণমান পরীক্ষা করেন। সমীক্ষার ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ধুলো এবং ধূলিকণার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণেই কলকাতার বাতাস ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। এমনকি শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে দূষণের মাত্রা আরও বেশি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে – যেখানে যানবাহনের চাপ বেশি, প্রচুর খাবারের দোকান এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকা রয়েছে – সেখানে যানবাহন ও কাঠের উনুনের ধোঁয়া বাতাসে প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা মেশাচ্ছে। কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়াও একইরকমভাবে দূষণ বাড়িয়ে চলেছে।

উল্লেখ্য, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম’ (এনক্যাপ) শুরু করে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে বাতাস থেকে পিএম১০-এর মাত্রা অন্তত ৪০ শতাংশ কমানো। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি শহর এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

তবে, এই ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, পিএম১০-এর তুলনায় পিএম২.৫ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর, কারণ এটি সরাসরি আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত বোর্ড না থাকার কারণে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর-সহ একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমের জন্য বরাদ্দ এনক্যাপের তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে।