পড়াশোনায় দুর্দান্ত, রবিবার জন্মদিনের আগেই রাত ১১টা ৫৫-তেই সব শেষ! না ফেরার দেশে IIT-র ছাত্র

আবারও ঝরে গেল একটি মেধাবী প্রাণ, তাও জন্মদিনের ঠিক আগের দিন! আইআইটি এলাহাবাদের প্রথম বর্ষের ছাত্র রাহুল মাদালা চৈতন্যের রবিবার ২১ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই, শনিবার গভীর রাতে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাহুল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছিলেন, বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মেধা ছিল অসাধারণ। তিনি জেইই মেইন (JEE Main) পরীক্ষায় ৫২তম স্থান অধিকার করেছিলেন। তাঁর বাড়ি তেলেঙ্গানায়।
শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিট নাগাদ হস্টেলের পাঁচতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেন রাহুল। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার না হলেও, মায়ের কাছে পাঠানো তাঁর শেষ মেসেজ থেকে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। শেষ মেসেজে রাহুল লিখেছিলেন, ‘ভাই ও বাবার খেয়াল রেখো’।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, রাহুল সম্প্রতি একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন এবং সেই কারণে তিনি অত্যন্ত দুঃখী ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এই ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই আইআইটি এলাহাবাদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা আগামী সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে।
অন্যদিকে, রাহুলের মা জানিয়েছেন, ছেলের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত ভিডিও কলে কথা হত, যেহেতু রাহুল কথা বলতে পারতেন না। হোস্টেলে ভালো খাবার খেলেও তিনি মেসেজ করে জানাতেন। রাহুল সারাদিন পড়াশোনা নিয়েই থাকতেন এবং বাইরে বেরোনো পছন্দ করতেন না।
ঘটনার দিন, শনিবার ছেলের ওই মেসেজ দেখেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে রাহুলের এক বন্ধুকে ফোন করে তাঁর খবর জানতে চান। সেই বন্ধু অন্য একজনকে রাহুলের খোঁজ নিতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ফোন কেটে যায় এবং পুনরায় ফোন করলে জানানো হয় যে রাহুল পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়েই তাঁরা তেলেঙ্গানা থেকে প্রয়াগরাজের দিকে রওনা হন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।
মৃত ছাত্রের মা কলেজ কর্তৃপক্ষের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, কলেজ এখন জানাচ্ছে যে রাহুল গত ছয় মাস ধরে ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন। তাহলে কেন এই বিষয়টি এতদিন পরিবারকে জানানো হয়নি?