মোথাবাড়িতে উত্তেজনা, সুকান্ত মজুমদারকে আটকে দিল পুলিশ, রাস্তায় বসে বিক্ষোভ

তিন দিন ধরে উত্তপ্ত মালদার মোথাবাড়ি। রবিবার সেখানে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। শনিবার মালদায় পৌঁছালেও, রবিবার সকালে মোথাবাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিরাট ব্যারিকেড তৈরি করে তার পথ আটকানো হয়। পুলিশের এই বাধার মুখে রাস্তায় বসে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমি একা যেতে চেয়েছিলাম, তাতে তো কোনো আইন লঙ্ঘন হতো না। তবুও আমাকে যেতে দেওয়া হলো না। এর বিরুদ্ধে আমরা বড় আন্দোলন করব এবং আজই তার ঘোষণা করা হবে।”
রবিবার সকালে মোথাবাড়ি যাওয়ার কয়েক কিলোমিটার আগে সাদুল্লাহপুর এলাকায় সুকান্ত মজুমদারকে আটকায় পুলিশ। সেখানে বাঁশের বিরাট ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল সাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মালদার জেলা পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেললেও দ্বিতীয় ব্যারিকেডে তাকে আটকে দেওয়া হয়। এরপর তিনি তার সঙ্গী মালদা দক্ষিণের সাংসদ খগেন মুর্মু ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রাস্তাতেই বসে পড়েন।
সুকান্ত মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি একা যেতে চাইলেও যেতে দেওয়া হয়নি। অথচ এখানকার তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের জন্য সব রাস্তা খোলা। পুলিশ তো শাসক দলের হয়ে কাজ করে। এই যে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হল, কী বলব আর, আমরা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার কথা জানি। এখানকার পুলিশ জেহাদি তিতুমীর, তাই এভাবে বাঁশের ব্যারিকেড গড়েছে। তবে আমরা এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও জোরদার করব। আজকেই পরবর্তী আন্দোলনের কথা ঘোষণা করা হবে।”
বাধা পেয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি আরও বলেন, “হিন্দু সমাজের লোক সবাই তৃণমূলের পুলিশের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।” মোথাবাড়িতে যাওয়ার আগে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তৃণমূলের বিধায়ক ও তাদের লোকজন দাপটের সঙ্গে ঘুরছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপিকে আটকাতেই সেখানে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শুধু বিজেপির জন্য ১৪৪ ধারা কেন থাকবে? নাকি পশ্চিমবঙ্গে শুধু তোষণের জন্য ১৪৪ ধারা তৈরি হয়েছে?”
চাপানউতোরের মধ্যেই সুকান্ত মজুমদার ব্যারিকেড পেরোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটকে দেয়। এরপর বাঁশের ব্যারিকেডের সামনে রাস্তাতেই বসে পড়েন তিনি এবং মাইক হাতে তৃণমূল ও পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “জেলে যেতে হলে জেলে যাবেন, আমার যুব মোর্চার ভাইদের কাছে অনুরোধ করে যাচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলে তাঁকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানাবেন। উনি পশ্চিমবঙ্গের যেখানে যাবেন সেখানে আমরা জয় শ্রীরাম বলব।” একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশকে বলছি আপনারা হিন্দুদের সুরক্ষিত করুন। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার আমার ভাষণ টিভিতে দেখছে। ওনাকে বলে দিতে চাই, বেশি দিন মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। আপনাকেও জেলে যেতে হবে। আপনার সময় এসে গিয়েছে।”
সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, মোথাবাড়িতে পুলিশ যে ব্যারিকেড করেছে, তা ভাঙা কোনো ব্যাপারই নয়। “এখন আমাদের ওয়ার্ম আপ চলছে। ক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত করে ধৈর্য ধরার কথা বলে তিনি বলেন, “আজ আমাদের আটকে দিয়েছেন। তাতে হয়তো আজ সাময়িকভাবে আমাদের লড়াই শেষ হচ্ছে। দু’ মিনিট পেলে আমরা এই ব্যারিকেট ভাঙতে পারতাম। কিন্তু এখন ম্যাচের আগে প্র্যাকটিস ম্যাচ হচ্ছে। যদি ভাঙতে হয় তাহলে নবান্নের সামনের ব্যারিকেড ভাঙব। তাতে মজা আলাদা।”
মোথাবাড়িতে রামনবমীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকার রয়েছে। ওখানে রামনবমীর মিছিল যখন হয় তখন মুসলিমরা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুল ছেটায়, শরবত খাওয়ায়। অপেক্ষা করুন ২৬ তারিখ পর্যন্ত। সেই দৃশ্য আপনারাও দেখতে পাবেন।” একই সঙ্গে তিনি সকলকে বিপুল উৎসাহের সঙ্গে রাম নবমী পালনের আহ্বান জানান।